17 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিডিজিটাল ভোট প্রক্রিয়ার দুর্বলতা সমাধান না করলে নির্বাচন স্বচ্ছতা ঝুঁকিতে

ডিজিটাল ভোট প্রক্রিয়ার দুর্বলতা সমাধান না করলে নির্বাচন স্বচ্ছতা ঝুঁকিতে

টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট (TGI) সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নীতি পত্রে বাংলাদেশের নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ডিজিটাল সিস্টেমের দুর্বলতা সমাধান না করা হলে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হবে বলে সতর্ক করেছে। এই সতর্কবার্তা ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে, ৫ ফেব্রুয়ারি TGI-র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনটির শিরোনাম “Hijacking the Vote: Inside Bangladesh’s Data-Driven Election Manipulation” এবং এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভোটের ধোঁকাবাজি আর কেবল ভোটপত্র চুরি বা কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে সীমাবদ্ধ নয়; এখন তা ডেটা-চালিত পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন অ্যাপ, ড্যাশবোর্ড এবং জাতীয় পরিচয় ডেটাবেসের ভূমিকা বাড়ছে।

TGI গবেষণায় বাংলাদেশীয় জাতীয় পরিচয় সিস্টেম, Postal Vote BD অ্যাপ, ডিজিটাল ফলাফল ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য নির্বাচনী ডিজিটাল মেকানিজমে উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা ফাঁক চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ফাঁকগুলো যদি দ্রুত সমাধান না করা হয়, তবে ভোটারদের আস্থা এবং নির্বাচনের ন্যায়পরায়ণতার ধারণা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

TGI-র বাংলাদেশ দেশের প্রধান ফোয়জিয়া আফরোজ উল্লেখ করেছেন যে, দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর দুর্বলতা সরাসরি ভোটের হেরফেরের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, কিছু প্রার্থী সরাসরি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করে, যা ব্যক্তিগত তথ্যের অননুমোদিত ব্যবহারকে সহজ করে।

আফরোজের মতে, সরকারি ডেটাবেসের বাইরে ব্যক্তিগত তথ্যের প্রবেশাধিকার পাওয়া সম্ভব, যা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সম্ভাবনা বাড়ায়। তিনি অতীতের কিছু প্রতিবেদনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, জাতীয় পরিচয় ডেটাবেস পূর্বে হ্যাক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এবং এই ধরনের লিকেজ পূর্ববর্তী নির্বাচনে দেখা irregularities-এ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডেটা লিকেজের ফলে বিদেশে বসবাসকারী বা বয়স্ক নাগরিকদের ভোট তাদের জ্ঞাত না হয়ে কাস্টমার করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী নির্বাচনে পর্যবেক্ষণ করা গিয়েছিল। এই ধরনের অনধিকৃত ভোটদান প্রক্রিয়া নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি আস্থা হ্রাস করে।

প্রতিবেদনটি আরও জানায় যে, প্রায় ১৮০টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর এবং অন্যান্য সেবা প্রদানকারী সংস্থা অন্তর্ভুক্ত, জাতীয় পরিচয় ডেটাবেসের যাচাইকরণে প্রবেশাধিকার পায়। এই বিস্তৃত প্রবেশাধিকার ডেটার অপব্যবহার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা হুমকির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

TGI এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি মূল পদক্ষেপের সুপারিশ করে। প্রথমত, জাতীয় পরিচয় ডেটাবেসের অ্যাক্সেস সীমিত করে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংস্থাগুলোর জন্যই অনুমোদন প্রদান করা উচিত। দ্বিতীয়ত, Postal Vote BD অ্যাপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল ভোটিং টুলের নিরাপত্তা মানদণ্ড বাড়িয়ে ত্রুটি সনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা দরকার।

তাছাড়া, ডিজিটাল ফলাফল ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ এবং স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের অডিট প্রক্রিয়া চালু করা প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা একত্রে ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং নির্বাচনের ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত না হয়, তবে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দুর্বলতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই, সরকার, প্রযুক্তি সংস্থা এবং সিভিল সোসাইটি একসাথে কাজ করে নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং ন্যায়সঙ্গত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার দিকে অগ্রসর হওয়া জরুরি।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments