বিএনপি’র প্রাক্তন উপজেলা সাধারণ সম্পাদক টি এম মাহবুবুর রহমান ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার জাওনিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় ভোটের সঙ্গে নিরাপত্তা ও সম্পর্ক‑উন্নয়নের বিষয় যুক্ত করে কথা বলেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করে।
তিনি উল্লেখ করেন, “দল হিসেবে ক্ষমতায় আসবে বিএনপি। জামায়াতে ভোট দিলে আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে,” এবং এভাবে ভোটের পছন্দকে পার্টি-সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত করার ইঙ্গিত দেন।
এরপর তিনি যোগ করেন, “আওয়ামী লীগের ভাইয়েরা কখনো ভয় করবেন না,” যা আওয়ামী লীগের সমর্থকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিরোধী দলের প্রতি সতর্কবার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
মাহবুবুর রহমান ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসলে এই আসনের কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হবে না, এমন নিশ্চয়তা দিয়ে সম্ভাব্য রাজনৈতিক হুমকির ইঙ্গিতও প্রকাশ করেন।
একই দিন কাশিডাঙ্গা এলাকায় আরেকটি সভায় তিনি একই রকম বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করেন, যেখানে তিনি সকল দলকে একসঙ্গে ভোট দিতে আহ্বান জানান এবং “ধানের শীষে ভোট দেবেন” বলে উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আমরা মামলা করতে পারতাম, কিন্তু করিনি,” এবং শুরু থেকেই যে কোনো দল ক্ষমতায় আসুক না কেন অন্যায় না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিএনপি’র ক্ষমতায় আসলেও অন্য দলের লোকজনকে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার না করতে চাওয়া সংস্কৃতি গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি, যা পার্টি-সীমান্তে সহনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্দেশ করে।
মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা উদ্যোগ নিয়েছেন এবং বাইরে থাকা লোকজনকে ফিরে এসে তাদের সঙ্গে থেকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কাশিডাঙ্গা সভায় তিনি বলেন, “এই এলাকার আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামাত—সবাই ধানের শীষে ভোট দেবেন,” না হলে অতীতের শত্রুতা তীব্র হবে, এবং সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে ভোটের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
এই মন্তব্যগুলোকে ভোটের সঙ্গে চাপ বা পরোক্ষ হুমকির ইঙ্গিত হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করা হয়, যেখানে ব্যবহারকারীরা রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন নষ্টের আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
প্রতিক্রিয়ায় মাহবুবুর রহমান জানান, “আমরা প্রতিহিংসামুক্ত, সম্প্রীতির সমাজ গড়তে চাই,” এবং জোর দিয়ে বলেন যে তার বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য এলাকার উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করানো, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এমন প্রকাশনা আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে এবং পার্টি-সংঘাতের তীব্রতা বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে সমন্বিত উন্নয়নের আহ্বানও স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিদ্যায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করতে পারে।



