সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবু ধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের শান্তি আলোচনার সমাপ্তি কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছায়নি। আলোচনার শেষে উভয় পক্ষই অতিরিক্ত আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যদিও এখনো কোনো সমঝোতা রূপরেখা প্রকাশিত হয়নি।
রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ইউক্রেনের এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে, তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে গিয়ে শীতের কাঁটা বাড়িয়ে তুলেছে। এই মানবিক সংকটের মাঝেও দু’পক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনার টেবিলে বসে, যুদ্ধ শেষের শর্তাবলী নিয়ে মতবিনিময় করেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার সমাপ্তি ঘোষণায় কোনো চুক্তির ইঙ্গিত না থাকলেও মস্কো ও কিইভ উভয়ই ভবিষ্যতে আরও আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয় পক্ষই যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি কাঠামোর মূল উপাদানগুলো পর্যালোচনা করেছে বলে জানানো হয়েছে।
আলোচনার শেষের দিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যমে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা শেয়ার করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণের মূল মানদণ্ডই আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয়। এই মন্তব্যটি আলোচনার মূল দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।
একই সময়ে, পরিচয় না প্রকাশের শর্তে একটি মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়ে বলেন যে, রোববার আবার আবু ধাবিতে একটি নতুন বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, “আলোচনায় আমরা পক্ষগুলোর মধ্যে যথেষ্ট সম্মান ও সমঝোতার ইচ্ছা দেখেছি, এবং আশা করা যায় যে রোববারের বৈঠকে চূড়ান্ত সমঝোতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।” এই মন্তব্যটি ভবিষ্যৎ আলোচনার সময়সূচি ও প্রত্যাশা স্পষ্ট করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি মুখপাত্রও জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা সরাসরি মুখোমুখি হয়ে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত শান্তি কাঠামোর মূল উপাদানগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই সরাসরি সংলাপটি চার বছর ধরে চলমান সংঘর্ষের পর প্রথমবারের মতো একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রয়টার্সের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আয়োজন যুদ্ধের দীর্ঘায়ুতে বিরল ঘটনা, যা উভয় পক্ষের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোকে পুনরায় সক্রিয় করার সংকেত দেয়। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে অগ্রগতি দেখা যায়নি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তার মতে, রোববারের পর মস্কো অথবা কিইভে অতিরিক্ত বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে, পুতিন, জেলেনস্কি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে। এই সম্ভাবনা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার জটিলতা ও বহুমাত্রিকতা নির্দেশ করে।
অধিকন্তু, মার্কিন কর্মকর্তার মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, “সেখান থেকে আমরা খুব দূরে আছি এমনটা মনে করি না”। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব, যদিও তাৎক্ষণিক ফলাফল এখনো অদৃশ্য।
এই আলোচনার পটভূমিতে রয়েছে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সংকট, শীতের তীব্রতা এবং মানবিক জরুরি অবস্থা, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ত্বরিত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা এই মানবিক চ্যালেঞ্জগুলোকে আলোচনার বিষয়বস্তুতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছে।
আবু ধাবিতে অনুষ্ঠিত এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি, যদিও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছায়নি, তবু ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি ভিত্তি স্থাপন করেছে। উভয় পক্ষের প্রকাশ্য ইচ্ছা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করছে।
পরবর্তী সপ্তাহে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে অতিরিক্ত বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, যা যুদ্ধের সমাপ্তি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই আলোচনার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছেন, কারণ এটি ইউক্রেনের মানবিক সংকটের সমাধান ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক।



