বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একদিনব্যাপী গণসংযোগ‑পথসভায় বিএনপি-সিলেট‑৪ আসনের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী শোনিয়েছেন, যদি দল সরকার গঠন করে তবে ভোলাগঞ্জ, জাফলং ও বিছনাকান্দি সংলগ্ন পাথর কোয়ারিগুলোকে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে পুনরায় চালু করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের শ্রমিকদের দাবি এই কোয়ারিগুলোকে আবার কাজের সুযোগ দিতে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কোয়ারি বন্ধ থাকার ফলে ঐ অঞ্চলের বিশাল শ্রমিক গোষ্ঠী বেকারত্বের শিকারে পরিণত হয়েছে; এদিকে পাথর আমদানির মাধ্যমে দেশের মুদ্রা বহির্গমন বাড়ছে। চৌধুরী বলেন, ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ব্যবহার করলে পরিবেশের ক্ষতি কমবে, কারণ আধুনিক যান্ত্রিক সরঞ্জাম (বোমা মেশিন) ব্যবহার করলে প্রকৃতির ক্ষতি অনিবার্য।
প্রস্তাবিত পুনরায় চালু করা কোয়ারিগুলো থেকে সৃষ্ট কর্মসংস্থান লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার উন্নতি করবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, দেশীয় পাথরের সরবরাহ বাড়িয়ে বিদেশি পাথরের ওপর নির্ভরতা কমবে, যা দেশের মুদ্রা সংরক্ষণে সহায়ক হবে।
চৌধুরী অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, মৃতাবস্থায় থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তাঁকে সিলেট‑৪ আসনে জনগণকে সেবা দিতে পাঠিয়েছেন। তিনি জানান, নিজের আসনের আগে দলীয় চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উন্নয়নমূলক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন।
বিএনপি-র ভোটাভুটি নিয়ে তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দানার শীষকে বিজয়ী করে তাকে সংসদে পাঠিয়ে সিলেট‑৪ আসনের সমগ্র উন্নয়নের দিকটি এগিয়ে নিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটের পরিবেশ এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন তা সমগ্র বাংলাদেশে উদাহরণস্বরূপ হয়।
এই রেলায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সহ-সভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সাল, সদস্য ফয়সাল আহমদ চৌধুরী, মহানগর সহ-সভাপতি সাদিকুর রহমান সাদিক, উপদেষ্টা আব্দুস শুকুর, তাঁতীদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়েজ আহমদ দৌলত, তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মালেক, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী আব্দুল মনাফ এবং সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর।
বিএনপি-র এই প্রতিশ্রুতি দলীয় নির্বাচনী কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থান পেয়েছে, যেখানে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমন্বিতভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিশ্চিত হলে, সনাতন পদ্ধতিতে কোয়ারি পুনরায় চালু করা বাস্তবায়নযোগ্য হবে এবং তা সিলেটের শ্রমিকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।



