আজ নাগরিক জোট ইবনে সীনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি পিএলসি কর্তৃক প্রকাশিত এক চাকরির বিজ্ঞাপনকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে। বিজ্ঞাপনটি এক্সিকিউটিভ/সিনিয়র এক্সিকিউটিভ, লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স পদে আবেদনকারীর জন্য নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করে। জোটের বিবৃতি অনুযায়ী এই শর্তগুলো সংবিধানিক সমতা নীতির সরাসরি লঙ্ঘন। সংস্থার এই পদক্ষেপের ফলে শ্রম বাজারে বৈষম্যের ঝুঁকি বাড়ছে।
বিজ্ঞাপনটিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে শুধুমাত্র পুরুষ এবং ধর্মীয়ভাবে মুসলিম প্র্যাকটিশনারদেরই আবেদন করা যাবে। এই শর্তগুলো লিগ্যাল ও কমপ্লায়েন্স কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক দেখায় না। একই সঙ্গে অন্যান্য যোগ্যতার মানদণ্ডও কাজের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রার্থীদের ধর্ম ও লিঙ্গের ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হয়েছে।
নাগরিক জোটের প্রকাশ্য বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশে সংবিধান সকল নাগরিককে সমান অধিকার প্রদান করে। সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই শুধুমাত্র পুরুষ ও মুসলিম প্রার্থীদের সীমাবদ্ধ করা আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য। জোটের মতে এই ধরনের বিজ্ঞাপন নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অনুপযুক্ত।
সংঘের যুক্তি হল, কোনো পদে নারীর বা অ-ইসলামি প্রার্থীর বাদ দেওয়া কোনো সাংস্কৃতিক মানদণ্ডের প্রতিফলন নয়। বরং এটি পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্য, যা নাগরিকত্ব ও দক্ষতাকে নীচু করে। লিগ্যাল বিভাগে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা লিঙ্গ বা ধর্মের সঙ্গে যুক্ত নয়। তাই এই শর্তগুলোকে ‘প্রিফারেন্স’ হিসেবে নয়, বরং বৈষম্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপনটিতে আরেকটি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে যা কাজের কার্যকারিতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। উদাহরণস্বরূপ, প্রার্থীর নির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুশীলন বা ব্যক্তিগত পরিচয়কে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়েছে। এই ধরনের মানদণ্ড কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য অপ্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত। জোটের মতে, নিয়োগের মানদণ্ড কাজের প্রয়োজনীয়তা, সমতা ও ন্যায়বিচারকে ভিত্তি করে হওয়া উচিত।
নাগরিক জোট ইবনে সীনা ফার্মাসিউটিক্যালকে তৎক্ষণাৎ বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি রেখেছে। পুনরায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের সময় শুধুমাত্র দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শর্ত নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছে। এই দাবিগুলো সংস্থার মানবসম্পদ নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
সংঘ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা এই ধরনের বৈষম্যমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক হিসেবে গৃহীত হওয়া থেকে রোধের আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ন্যায়সঙ্গত নিয়োগ নীতি নিশ্চিত করা জরুরি। এভাবে কর্পোরেট সেক্টরে সমতা ও ন্যায়বিচার বজায় থাকবে।
বৈষম্যমূলক বিজ্ঞাপন প্রকাশের ফলে ইবনে সীনা ফার্মাসিউটিক্যালের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিনিয়োগকারী ও অংশীদাররা কোম্পানির শাসনব্যবস্থা ও নৈতিক মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। বাজারে এই ধরনের ঘটনা শেয়ার মূল্যের অস্থিরতা বাড়াতে পারে। ফলে কোম্পানিকে দ্রুত সুনাম পুনরুদ্ধার এবং শাসন কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে।
সংবিধানিক বিধান লঙ্ঘনের সম্ভাবনা আইনি চ্যালেঞ্জের দিকে নিয়ে যেতে পারে। শ্রম আদালতে বৈষম্যজনিত মামলা দায়ের হলে জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ আরোপিত হতে পারে। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে জরুরি নির্দেশনা বা শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কোম্পানির জন্য আইনি ঝুঁকি হ্রাস করা জরুরি।
এই ঘটনার পর কর্পোরেট সেক্টরে নিয়োগ নীতি পুনর্মূল্যায়নের প্রবণতা বাড়বে বলে আশা করা যায়। কোম্পানিগুলোকে শর্ত নির্ধারণে কাজের প্রাসঙ্গিকতা ও সমতা নিশ্চিত করতে হবে। মানবসম্পদ বিভাগে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি নীতি শক্তিশালী করা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিতে পারে। ভবিষ্যতে সমতা-ভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাজারের স্বাভাবিক প্রত্যাশা হয়ে উঠবে।
নাগরিক জোটের তীব্র নিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার তদারকি দাবি ইবনে সীনা ফার্মাসিউটিক্যালের জন্য একটি সতর্কবার্তা। সংস্থাকে দ্রুত বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার, ক্ষমা চাওয়া এবং বৈধ শর্তসহ পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো না হলে আইনি ও বাজারের চাপ বাড়তে থাকবে। শেষ পর্যন্ত, সমতা-ভিত্তিক কর্মসংস্থান নীতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।



