ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (ডিএসইউ সিইউ) ভাইস‑প্রেসিডেন্ট আবু শাদিক কায়েম আজ দুপুরে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে উল্লেখ করেন, আসন্ন রেফারেন্ডামের ‘না’ ভোটের প্রচারে ‘ডিপ স্টেট’ের একটি অংশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্বপ্ন পূরণে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গৃহীত ‘আজাদি’ ক্যাম্পেইনের সময়ই এই গোষ্ঠী, কিছু মিডিয়া ও ফ্যাসিস্ট শক্তি ‘না’ ভোটের সমর্থনে তৎপর হয়েছে।
এই বক্তব্যটি ‘কম্বাইন্ড স্টুডেন্টস কাউন্সিলস’ দ্বারা সমন্বিত জাতীয় ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে শাদিক কায়েমের মুখে উঠে আসে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই শত্রুদের সনাক্ত করা জরুরি, কারণ তারা দেশের মঙ্গলার্থে কাজ করে না, জুলাই বিপ্লবের আদর্শকে অগ্রাহ্য করে এবং দেশের শাসনব্যবস্থাকে ফ্যাসিস্ট রূপে ফিরিয়ে আনতে চায়।
কায়েম আরও উল্লেখ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ও তার সর্বোচ্চ নেতার ফিরে আসার পর থেকে তাদের রাজনৈতিক চালচলন ভারতের নির্দেশনা অনুসরণ করে চলছে, যদিও তিনি সরাসরি বিএনপি নাম উল্লেখ না করে এই মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করেন, যদি এই দল বাংলাদেশে রাজনীতি চালাতে চায়, তবে তাকে সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সহযোগীদের বিরোধিতা করতে হবে।
জাতীয় পার্টি (জেপি) সম্পর্কে কথা বলার সময় শাদিক কায়েম বলেন, গত ১৬ বছর ধরে হাসিনা সরকারকে ‘হত্যাকারী’ বলে সমর্থন করা কিছু জেপি নেতা এখন ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি অতীতে এই নেতাদের অ-গণতান্ত্রিক ভূমিকা উল্লেখ করে, তাদের ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত বলে দাবি করেন। গৌরব মজুমদার কেদার ও জেপি-কে গত ১৫ বছর ধরে জনগণের বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য বিচারের আওতায় আনা দরকার, এ কথাও তিনি যোগ করেন।
শাদিক কায়েমের মতে, যারা জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আদর্শকে অগ্রাহ্য করে ‘না’ ভোটের পক্ষে দাঁড়াবে, তারা ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে তাদের উত্তর পাবে। তিনি এই ভোটের ফলাফলকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মূল মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (জিএসইউ সিইউ), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (সিইউ সিইউ) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আরইউ সিইউ) সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তারা সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে একতাবদ্ধ হয়ে রেফারেন্ডামের সফলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছেন।
শাদিক কায়েমের মন্তব্যের পর, উপস্থিত ছাত্র নেতারা ‘ডিপ স্টেট’ের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে তীব্র করার আহ্বান জানায় এবং রেফারেন্ডামকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে তুলে ধরে। তারা উল্লেখ করেন, রেফারেন্ডামের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে দেশের সংবিধানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
এই সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল রেফারেন্ডামের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গঠন করা এবং ‘না’ ভোটের পক্ষে কাজ করা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। শাদিক কায়েমের বক্তব্যের মাধ্যমে ‘ডিপ স্টেট’ের হস্তক্ষেপের অভিযোগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। রেফারেন্ডামের ফলাফল ও তার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তাই সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর দায়িত্ব হল স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়াকে সমর্থন করা।



