19 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঅন্তর্বর্তী সরকার ৫২৬টি সিদ্ধান্তের ৮৩% বাস্তবায়ন সম্পন্ন

অন্তর্বর্তী সরকার ৫২৬টি সিদ্ধান্তের ৮৩% বাস্তবায়ন সম্পন্ন

অন্তর্বর্তী সরকার আগস্ট ২০২৪-এ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ৫২৬টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় এবং তার মধ্যে ৪৩৯টি ইতিমধ্যে কার্যকর করেছে। এই ফলাফলটি বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের মাধ্যমে জানানো হয়। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ৮ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৬৮টি সাপ্তাহিক বৈঠক পরিচালনা করেছে।

প্রতিটি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া চালিত হয়েছে। এই বৈঠকগুলোতে গৃহীত ৫২৬টি সিদ্ধান্তের ৪৩৯টি বাস্তবায়িত হওয়ায় বাস্তবায়নের হার ৮৩.৪৬ শতাংশে পৌঁছেছে। শফিকুল আলম বলেন, এই অগ্রগতি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক।

বৈঠকের পাশাপাশি, সরকার ১১৬টি অধ্যাদেশ জারি করেছে। এর মধ্যে ১৬টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন এবং তিনটি নীতিগতভাবে অনুমোদিত অবস্থায় রয়েছে। অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো ইতিমধ্যে কার্যকরী অবস্থায় রয়েছে, যা নীতি বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত করেছে।

অধিকন্তু, নীতি, নীতিমালা, কর্মকৌশল এবং কর্মপরিকল্পনা সমন্বিত ৩০টি নীতিমূলক দলিল প্রস্তুত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬টি স্বাক্ষরিত বা অনুমোদিত হয়েছে, আর ১৪টি বর্তমানে বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। এই দলিলগুলো সরকারী কার্যক্রমের কাঠামোগত দিককে সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শফিকুল আলম আরও জানিয়েছেন, এই সময়কালে সরকার ১৪টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিগুলো বাণিজ্য, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন পূর্বের সরকারের তুলনায় অধিক কার্যকরী হবে।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো ছোটখাটো পরিবর্তন নয়; বরং তারা দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক কাঠামোতে মৌলিক সংস্কার আনতে লক্ষ্যবদ্ধ। শফিকুল আলমের মতে, এই সংস্কারগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় উন্নয়নের গতি বাড়াবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের এই অর্জনকে পূর্ববর্তী সরকারের কর্মক্ষমতার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, বাস্তবায়নের হার এবং গৃহীত নীতির পরিমাণে বর্তমান সরকার উল্লেখযোগ্যভাবে অগ্রগতি করেছে। তিনি যুক্তি দেন, এই পার্থক্য কেবল সংখ্যাত্মক নয়, বাস্তবিক ফলাফলের দিক থেকেও স্পষ্ট।

বৈঠকের সময়ে গৃহীত নীতিগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এদিকে, প্রক্রিয়াধীন অধ্যাদেশগুলোকে দ্রুত অনুমোদন ও প্রকাশের জন্য একটি ত্বরান্বিত প্রক্রিয়া গঠন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো নীতি-নিয়মের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।

অন্তর্বর্তী সরকার ভবিষ্যতে আরও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং নীতিমূলক দলিলের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। শফিকুল আলমের মতে, পরবর্তী ধাপে সরকারী কর্মসূচিগুলোর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে, যাতে বাস্তবায়নের হার আরও বৃদ্ধি পায়।

সর্বশেষে, শফিকুল আলম জোর দিয়ে বলেন, গৃহীত সিদ্ধান্ত ও নীতিগুলো দেশের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে এবং এই পরিবর্তনগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলবে। বাংলাদেশ সরকার এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে অঙ্গীকারবদ্ধ।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments