সকালবেলা তাড়াতাড়ি উঠে কাজ করা এবং রাত জাগ্রত থেকে কাজ করা নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ রয়েছে। এই পার্থক্য ব্যক্তিগত অভ্যাস, শারীরিক ঘড়ি এবং সামাজিক প্রত্যাশা থেকে উদ্ভূত হয়। উভয় দৃষ্টিভঙ্গি নিজস্ব সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে, যা প্রায়ই অনানুষ্ঠানিক আলোচনা, গ্রুপ চ্যাট বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌতুকের বিষয় হয়ে ওঠে।
সকালবেলা সক্রিয় মানুষরা প্রায়ই নিজেদেরকে উৎপাদনশীল, সতেজ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করে। তারা বিশ্বাস করে যে শীঘ্রই জাগ্রত হওয়া একটি নৈতিক সাফল্য, যা দিনের বাকি সময়কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাফল্যের পথে নিয়ে যায়। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রাতঃকালে পানি পান, হালকা স্ট্রেচ এবং পরিকল্পনা করার মাধ্যমে দিন শুরু করার কথা উল্লেখ করে।
একজন উদাহরণস্বরূপ নাবিলের অভ্যাসে এই প্রবণতা স্পষ্ট। তিনি অ্যালার্মের শব্দ শোনার আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাগ্রত হন এবং অ্যালার্মকে শুধুমাত্র সাজসজ্জার বস্তু হিসেবে ব্যবহার করেন। সকাল পাঁচটায় তিনি জিমের পোশাক পরিধান করে প্রোটিন শেক হাতে নিয়ে প্রস্তুত হন, এবং তার জুতা এমনভাবে সাজানো থাকে যেন পরিদর্শনের জন্য অপেক্ষা করছে। নাবিলের দিনচর্যা সামরিক শৃঙ্খলার মতো, যেখানে রুটিন, শৃঙ্খলা এবং পুনরাবৃত্তি প্রধান ভূমিকা পালন করে।
নাবিলের মতে, “সকাল পাঁচটায় জাগ্রত হওয়া হল নিখুঁত জীবনের সূত্র”। তিনি দিনের কাজগুলোকে চেকলিস্টে চিহ্নিত করে অগ্রসর হন এবং প্রোটিন শেকের মাধ্যমে পুষ্টি গ্রহণ নিশ্চিত করেন। তার রুটিনে শারীরিক ব্যায়াম, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করা অন্তর্ভুক্ত, যা তাকে আত্মবিশ্বাস এবং উৎপাদনশীলতা প্রদান করে।
অন্যদিকে রাতের পাখি, যাদেরকে নৈশজাগ্রত বলা হয়, তারা রাতের সময়কে সৃজনশীলতা ও বিশ্রামের সময় হিসেবে দেখে। তাদের জন্য রাতের নীরবতা কাজের মনোযোগ বাড়ায় এবং দিন শেষে শিথিলতা প্রদান করে। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রায়ই রাতের শেষ পর্যন্ত জাগ্রত থাকে এবং সকালে শোয়া পর্যন্ত বিশ্রাম নেয়।
উদাহরণস্বরূপ ওয়াসি নামের একজন ব্যক্তি রাতের শেষ পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকেন এবং সকাল সাতটায়ও এখনও স্বপ্নের জগতে ডুবে থাকেন। তার জন্য রাতের সময়ই সবচেয়ে সক্রিয় সময়, যেখানে তিনি নিজের কাজ, শখ বা অনলাইন কার্যক্রমে মনোযোগ দেন। ওয়াসি উল্লেখ করেন যে, রাতের সময়ে তিনি বেশি সৃজনশীল ধারণা পেয়ে থাকেন এবং কাজের গতি ত্বরান্বিত হয়।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা দেখায় যে ব্যক্তির স্বাভাবিক ঘড়ি (সারকেডিয়ান রিদম) নির্ধারণ করে তিনি কখন সবচেয়ে সতর্ক ও উৎপাদনশীল হন। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে সকালবেলা সক্রিয় মানুষরা শারীরিক ব্যায়াম ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারেন, আর রাতের পাখিরা সৃজনশীল কাজ ও সমস্যার সমাধানে বেশি দক্ষ হতে পারেন। তবে অতিরিক্ত দেরিতে শোয়া ঘুমের গুণমান হ্রাস করে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, নিজের স্বাভাবিক ঘড়ি অনুযায়ী নিয়মিত সময়ে শোয়া ও জাগ্রত হওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত শৃঙ্খলা বা অতিরিক্ত স্বাচ্ছন্দ্য উভয়ই ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে। তাই, সকালবেলা বা রাতের সময় যাই পছন্দ করুন না কেন, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ বজায় রাখা উচিত।
সারসংক্ষেপে, সকালবেলা ও রাতের ঘুমের পছন্দে কোনো একটিই সবার জন্য সর্বোত্তম নয়; ব্যক্তিগত শারীরিক ঘড়ি, কাজের ধরণ এবং জীবনশৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রুটিনই স্বাস্থ্যকর। আপনার জন্য কোন সময়টি সবচেয়ে উপযোগী, তা নির্ধারণ করে তা অনুসরণ করা কি আপনার উৎপাদনশীলতা ও স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক হবে?



