ইউরোপের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে নতুন বায়োমেট্রিক সীমানা সিস্টেমের (Entry‑Exit System) প্রয়োগের ফলে পাসপোর্ট চেক‑ইন এলাকায় দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা হতে পারে বলে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মের ছুটির মৌসুমে এবং শীতকালীন স্কি সিজনের শনি-দিবসে যাত্রীদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিউয়ের সময় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশন এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে জানিয়েছে যে শীর্ষ সময়ে, অর্থাৎ জুলাই‑আগস্ট মাসে, নতুন সিস্টেমের ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত করা সম্ভব, এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হতে পারে। তবে, কিছু বিমানবন্দর এখনও নতুন এন্ট্রি‑এক্সিট সিস্টেমের (EES) কার্যকরী প্রভাবকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করে কিউয়ের বৃদ্ধি ব্যাখ্যা করছে।
সুইস কাস্টমস এবং জেনেভা বিমানবন্দরের মুখপাত্রের মতে, EES বাস্তবায়ন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিস্টেমের জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এই সমস্যার সমাধানে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ এবং কিউ পরিচালনা উন্নত করার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ক্যানারি দ্বীপের টেনেরিফে একই ধরণের সমস্যার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। টেনেরিফে অবস্থিত একটি গাড়ি ভাড়া কোম্পানির মালিক, যাঁর বেশিরভাগ গ্রাহক যুক্তরাজ্য থেকে আসেন, জানান যে শীতের সূর্যালোকে ভ্রমণকারী অনেকেই সীমানা কিয়স্কে দীর্ঘ লাইনে আটকে গেছেন। কম ভিড়ের সময়ে যাত্রীরা দ্রুত পাসপোর্ট চেক‑ইন পার হয়ে যান, তবে একাধিক বিমান একসাথে অবতরণ করলে কিউ দ্রুত জমে যায়।
কিছু যাত্রী ২০ মিনিটের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করতে পারলেও, অন্যরা এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। সিস্টেমের মাঝে মাঝে ডাউন হওয়ার ঘটনা ঘটায়, ফলে পরিষেবার গুণগত মান অনিয়মিত হয়ে ওঠে। এই অস্থিরতা যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলেছে।
ডিজিটাল এন্ট্রি‑এক্সিট সিস্টেমের মূল উদ্দেশ্য হল শেনগেন অঞ্চলের সীমানা পাস করার সময় কাগজের স্ট্যাম্পের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বায়োমেট্রিক তথ্য রেকর্ড করা। সিস্টেমটি নন‑ইইউ নাগরিকদের প্রথমবার শেনগেনের কোনো সীমানা পার হওয়ার সময় আঙুলের ছাপ, ফটো এবং পাসপোর্ট স্ক্যান করার প্রয়োজনীয়তা আরোপ করে। এই রেজিস্ট্রেশন তিন বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে এবং পরবর্তী ভ্রমণের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হয়।
যাত্রীরা সাধারণত বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় কিয়স্কের মাধ্যমে এই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে, পরবর্তী যাত্রায় পাসপোর্ট স্ক্যানের মাধ্যমে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে, সিস্টেমের নতুনত্ব এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বর্তমান পর্যায়ে কিছু জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমানা নিরাপত্তা ও ভ্রমণ স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে চালু করা EES, দীর্ঘমেয়াদে পাসপোর্ট চেক‑ইনের সময় কমিয়ে আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবুও, শীর্ষ পর্যটন মৌসুমে সিস্টেমের সাময়িক স্থগিত বা অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমানো জরুরি। ভবিষ্যতে সিস্টেমের স্থিতিশীলতা ও ব্যবহারিকতা উন্নত হলে, ইউরোপীয় বিমানবন্দরগুলোতে স্বয়ংক্রিয় বায়োমেট্রিক চেক‑ইন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
এই পরিস্থিতি প্রযুক্তি ও ভ্রমণ শিল্পের সংযোগস্থলে নতুন চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করছে, যেখানে দ্রুত প্রযুক্তিগত আপডেট এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা সমন্বয় করা প্রয়োজন। ইউরোপীয় বিমানবন্দরগুলোকে এখনই সিস্টেমের ত্রুটি হ্রাস, কর্মী প্রশিক্ষণ এবং যাত্রীদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করে এই পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে হবে।



