ইলেকশন কমিশনের (ইসি) দুই অতিরিক্ত আঞ্চলিক কর্মকর্তা, ফরিদপুরের মাহফুজুর রহমান এবং কুমিল্লার শুধাংসু কুমার সাহা, এনআইডি সেবা সংক্রান্ত ঘুষের অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাহফুজুর রহমানকে এনআইডি জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদনকারীকে শোনার জন্য ডেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে এবং দর-কষাকষির মাধ্যমে ১.৭ লাখ টাকা নির্ধারিত হয়। আবেদনকারী ঘুষ না পেলে তিনি সংশ্লিষ্ট আবেদনটি বাতিল করেন।
অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে অডিও রেকর্ডের ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যেখানে রেকর্ডে শোনা কণ্ঠের সঙ্গে মাহফুজুর রহমানের কণ্ঠের সাদৃশ্য স্পষ্টভাবে পাওয়া গিয়েছে। ফরেনসিক ফলাফলকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপনে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে চাকরি হইতে বরখাস্তের দণ্ড আরোপ করা হয়েছে।
শুধাংসু কুমার সাহার ক্ষেত্রেও একই ধরনের শৃঙ্খলাবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যদিও তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ঘুষের পরিমাণ বা অডিও প্রমাণের বিশদ উল্লেখ করা হয়নি। উভয় কর্মকর্তার বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পরে চূড়ান্তভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
ইসির সচিবালয় জানিয়েছে যে, এই আদেশগুলো জনস্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে জারি করা হয়েছে এবং এনআইডি সেবায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে যে, এনআইডি সেবা সংক্রান্ত প্রথমবারের মতো এমন কঠোর শাস্তি আরোপ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক দিক থেকে, শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী বরখাস্তের দণ্ড প্রযোজ্য হওয়ায় উভয় কর্মকর্তার পদত্যাগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট বিভাগে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য অস্থায়ীভাবে অন্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থা এখনো সম্পূর্ণ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক অভিযোগ থাকলে তা অনুযায়ী আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এই ঘটনার পর ইসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এনআইডি সেবা প্রদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘুষের অভিযোগ এড়াতে আবেদনকারী ও সেবা প্রদানকারীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
সর্বশেষে, নির্বাচন কমিশন উল্লেখ করেছে যে, জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সেবা মান উন্নয়নের জন্য এই ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ অপরিহার্য এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।



