পাকিস্তানের উত্তর‑পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের পাবি শহরে বুধবার নবম আন্তর্জাতিক সামরিক প্রতিযোগিতা ‘ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তান আর্মি টিম স্পিরিট কম্পিটিশন (প্যাটস)‑২০২৬’ উদ্বোধন করা হয়। এতে বাংলাদেশসহ ১৯টি দেশ থেকে মোট ২৪টি দল অংশগ্রহণ করে, আর ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত। এই মহড়া ৬০ ঘণ্টা স্থায়ী টহলভিত্তিক প্রশিক্ষণকে কেন্দ্র করে, যা সেনাবাহিনীর শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং বাস্তব যুদ্ধপরিস্থিতির নিকটবর্তী কৌশলগত দক্ষতা যাচাই করে।
খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে, অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে বাস্তবিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করা হয়। প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হল দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, দলগত সমন্বয় এবং উচ্চমানের ট্যাকটিক্যাল দক্ষতা বৃদ্ধি করা, যা আধুনিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অপরিহার্য বলে বিবেচিত।
এইবারের মহড়ায় সৌদি আরব, বাহরাইন, বাংলাদেশ, বেলারুশ, মিসর, ইরাক, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মরক্কো, নেপাল, কাতার, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং উজবেকিস্তানসহ ১৯টি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রতিটি দেশ থেকে একাধিক দল পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর ইউনিট অন্তর্ভুক্ত।
ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ড এই মহড়ায় পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, যা প্রশিক্ষণের স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক শেখার পরিবেশকে সমর্থন করে। পর্যবেক্ষক দলগুলো প্রশিক্ষণের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে এবং ভবিষ্যৎ যৌথ অভিযানে সহযোগিতার সম্ভাবনা মূল্যায়ন করে।
পাকিস্তানের নিজস্ব অংশগ্রহণকারী দলগুলোতে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর ১৬টি স্থানীয় দল অন্তর্ভুক্ত, আর বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিরা পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত। এই দেশীয় দলগুলো আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে, যাতে প্রশিক্ষণের মান ও অভিজ্ঞতা সমানভাবে ভাগ করা যায়।
একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “এই ধরনের বৃহৎ পরিসরের সামরিক মহড়া পারস্পরিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে দৃঢ় করে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।” তিনি আরও যোগ করেন, “বহু দেশ একসঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল শেয়ার করে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
অন্যদিকে, একটি নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, “প্যাটস‑২০২৬ মহড়া পাকিস্তানের ‘টিম স্পিরিট’ নীতির ধারাবাহিকতা, যা প্রতিটি বছর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সামরিক দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্য রাখে।” তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং এই মহড়া তা আরও সুদৃঢ় করবে।”
মহড়ার সময়সূচি অনুযায়ী, ৬০ ঘণ্টার টহলভিত্তিক প্রশিক্ষণ শেষে একটি সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অংশগ্রহণকারী দলগুলো তাদের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন পাবে এবং ভবিষ্যৎ যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা আলোচনা করবে। পরবর্তী বছরেও একই ধরণের মহড়া চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
সারসংক্ষেপে, প্যাটস‑২০২৬ মহড়া কেবল শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা পরীক্ষা নয়, বরং বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে। এই ধরনের উদ্যোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত প্রচেষ্টার ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।



