পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সেশনে ইন্টারিম সরকারের সময় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ইন্টারিম সরকারের অধীনে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক মসৃণ ছিল না এবং বর্তমানে তা কিছুটা থেমে আছে।
এই স্থবিরতার পেছনে বেশ কয়েকটি সেটব্যাক রয়েছে, যার মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক শর্ত এবং জলসম্পদ ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ উল্লেখযোগ্য।
তৌহিদ হোসেন কোনো পক্ষকে দোষারোপ করতে ইচ্ছুক না বলে, উভয় দেশই নিজেদের স্বার্থের ভিত্তিতে নীতি গ্রহণ করেছে, ফলে কিছু বিষয় সমন্বয়হীন রয়ে গেছে, তা স্বীকার করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্তে অবকাঠামো উন্নয়ন, পারস্পরিক বাণিজ্যিক সুবিধা এবং নদী-নদীর জলবণ্টন সংক্রান্ত আলোচনায় প্রত্যাশিত সমঝোতা অর্জিত হয়নি।
এধরনের স্বার্থের পার্থক্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে বন্ধুত্বপূর্ণ সংযোগ বজায় রাখতে বাধা হওয়া উচিত নয়, তিনি জোর দেন।
তৌহিদ হোসেন আশা প্রকাশ করেন, তার উত্তরাধিকারী এবং পরবর্তী সরকার যখন ক্ষমতায় আসবে, তখন এই সম্পর্ককে পুনরায় মসৃণ করার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যৎ সরকারকে কেবল দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলো সমাধান নয়, বরং বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
সম্পর্কের কোনো গণ্ডি না থাকলেও স্বার্থের সংঘাত অবশ্যম্ভাবী, তবু মসৃণ সংযোগ বজায় রাখা সকল দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তিনি পুনরায় বলেন।
অবস্থা নিয়ে নৈরাশ্যবাদী হওয়া যায় না, তৌহিদ হোসেন আশাবাদী স্বরে বললেন, ইতিবাচক মনোভাবই সমস্যার সমাধানের পথ খুলে দেবে।
শেখ হাসিনার (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) ভারত থেকে ফেরত নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, মনোভাব একটি বিমূর্ত ধারণা, যা নিয়ে আলোচনা করা উপযুক্ত নয়।
বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি, তাই অতিরিক্ত অনুমান করা ঠিক হবে না, তিনি উল্লেখ করেন।
পরবর্তী সরকারের দায়িত্ব হবে এই জটিল বিষয়গুলোকে কূটনৈতিকভাবে সমাধান করা এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্নির্মাণ করা, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
তৌহিদ হোসেনের মন্তব্য অনুসারে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়ন আগামী সরকারে অগ্রাধিকার পাবে এবং তা দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক লক্ষ্যকে শক্তিশালী করবে।



