22 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধউত্তর সাগরের ট্যাঙ্কার ধসে যাওয়ায় ক্যাপ্টেনের নীরবতা পুলিশকে দোষী প্রমাণ করে

উত্তর সাগরের ট্যাঙ্কার ধসে যাওয়ায় ক্যাপ্টেনের নীরবতা পুলিশকে দোষী প্রমাণ করে

১০ মার্চ ২০২৫-এ উত্তর সাগরের হাম্বার এস্টারির প্রায় ১৪ নটিকাল মাইল দূরে নোঙর করা স্টেনা ইম্যাকুলেটের সঙ্গে সোলং নামের কার্গো জাহাজের সংঘর্ষ ঘটায় বিশাল অগ্নি স্ফোটন। দু’টি জাহাজেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে, ফলে একাধিক কর্মী আহত হয়। ঘটনাস্থলে হাম্বারসাইড পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং তদন্তের দায়িত্ব ডিটেকটিভ চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ক্রেগ নিকলসনকে দেয়া হয়।

সংঘর্ষের পর সোলং জাহাজের ক্যাপ্টেন ভ্লাদিমির মোটিনের ব্রিজে রেকর্ড করা অডিওতে প্রায় এক মিনিটের সম্পূর্ণ নীরবতা শোনা যায়। পটভূমিতে হালকা বাতাসের শব্দ বা গুঞ্জন ছাড়া কোনো মানবিক সাড়া নেই, যা পুলিশকে সন্দেহের দিকে ঠেলে দেয়। নিকলসন উল্লেখ করেন, এই ধরনের দীর্ঘ নীরবতা ঘটনার পরবর্তী দায়িত্ব পালনে অবহেলার ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে স্টেনা ইম্যাকুলেটের ব্রিজে রেকর্ড করা অডিও সম্পূর্ণ ভিন্ন। সংঘর্ষের সঙ্গে সঙ্গে একটি কর্মী গালি দেয়, তৎক্ষণাৎ অ্যালার্ম বাজে এবং ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ক্যাপ্টেন তৎক্ষণাৎ ক্রুদের মাস্টার স্টেশনে সমবেত করেন এবং অগ্নি নিভানোর পাম্প চালু করেন। এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া পুলিশকে জাহাজের পরিচালনায় পার্থক্য স্পষ্ট করে দেখায়।

নির্দেশক নিকলসন আদালতে উভয় অডিও রেকর্ড তুলনা করে বলেন, সোলংের নীরবতা এবং স্টেনার সক্রিয় প্রতিক্রিয়া একসাথে দেখলে মোটিনের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়। তিনি উল্লেখ করেন, “দুইটি রেকর্ডের পার্থক্যটি খুবই স্পষ্ট এবং তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে।”

এই প্রমাণের ভিত্তিতে ২০২৬ ফেব্রুয়ারি ৫ তারিখে ভ্লাদিমির মোটিনকে ‘গুরুতর অবহেলার মাধ্যমে হত্যা’ অপরাধে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত তার কাজকে ‘গুরুতর অবহেলা’ হিসেবে বিবেচনা করে, যা বহু প্রাণের ক্ষতি ঘটায়।

হাম্বারসাইড পুলিশ তদন্তে উল্লেখ করে, সংঘর্ষের আগে এবং পরে মোটিনের জাহাজে কোনো সতর্কতা সংকেত বা জরুরি কলের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এছাড়া, ক্যাপ্টেনের দায়িত্বে থাকা সময়ে কোনো যোগাযোগের প্রচেষ্টা করা হয়নি, যা তার দায়িত্বের গুরুতর লঙ্ঘন নির্দেশ করে।

এই মামলায় হাম্বারসাইড পুলিশ এবং হ্যাম্বারসাইড কোর্টের সহযোগিতা স্পষ্ট হয়। তদন্তের সময় রেকর্ডেড অডিও, জাহাজের নেভিগেশন ডেটা এবং সাক্ষী বিবৃতি একত্রিত করে মোটিনের অবহেলা নিশ্চিত করা হয়। আদালত এই প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করে এবং শাস্তি আরোপ করে।

ভবিষ্যতে হাম্বারসাইড পুলিশ জাহাজের নেভিগেশন এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থার কঠোর পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর পরিকল্পনা জানায়। একই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে জাহাজের ক্যাপ্টেনদের প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ববোধ জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments