চট্টগ্রাম বন্দর আজ (৫ ফেব্রুয়ারি) সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে, ফলে দেশের প্রধান রপ্তানি-আমদানি গেটওয়ে কার্যহীন অবস্থায় রয়েছে। শ্রমিকদের চলমান কর্মবিরতির ফলে জাহাজ চলাচল থেমে গেছে এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের শীর্ষ দশটি ব্যবসায়িক সমিতি সরকারকে ত্বরিত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
গুলশানের বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শেষে সমিতিগুলো একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে বন্দর বন্ধের ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে গভীর ক্ষতি হবে বলে সতর্কতা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বন্দর বন্ধের এক দিনেরও বেশি সময়ে হাজার কোটি টাকার সরাসরি ক্ষতি হতে পারে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সমিতিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), বাংলাদেশ শিল্প চেম্বার, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই), ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্য (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার উৎপাদক ও রফতানিকার (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিটিএলএমইএ), বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট বাইং হাউস এসোসিয়েশন (বিজিবিএ)।
সমিতির নেতারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দর ইতিহাসে প্রথমবার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়েছে। বন্দরকে দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এবং এক দিনের অচলাবস্থা ইতিমধ্যে লক্ষ লক্ষ টাকার সরাসরি ক্ষতি সৃষ্টি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাকসহ সব সেক্টরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, যা দেশের বাণিজ্যিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রপ্তানি খাতের কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে পারছে না, ফলে উৎপাদন শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটছে। একই সঙ্গে, উৎপাদিত পণ্য বন্দরেই আটকে থাকায় জাহাজীকরণ সম্ভব হচ্ছে না, ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত ডেলিভারি সময় পূরণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুই দিকের সমস্যার সমন্বয় বাণিজ্যিক চুক্তির ওপর চাপ বাড়িয়ে তুলেছে।
সমিতির প্রতিনিধিরা সতর্ক করেন, যদি বন্ধ অবস্থা কয়েক দিন বেশি স্থায়ী হয়, তবে বড় অঙ্কের ক্রয় আদেশ বাতিলের সম্ভাবনা বাড়বে। ফলে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে সরবরাহ বন্ধ করে অন্য দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের দিকে ঝুঁকতে পারে। এই ঝুঁকি দেশের রপ্তানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অবশেষে, সমিতিগুলো সরকারকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়, যাতে বন্দর পুনরায় চালু করা যায় এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তারা জোর দিয়ে বলেন, বন্দর বন্ধের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি সীমিত করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের সুনাম রক্ষার জন্য জরুরি হস্তক্ষেপ অপরিহার্য। সরকারী হস্তক্ষেপ ছাড়া বন্দর পুনরুদ্ধার দীর্ঘ সময় নিতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে।



