স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কর্মরত ডাক্তার, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিতি বজায় রাখার নির্দেশনা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। উপপরিচালক (পার-২) ডা. কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নিয়মিত উপস্থিতি না থাকা ও সময়ের আগে অফিস ত্যাগের প্রবণতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে না আসা এবং অগ্রিম প্রস্থানের সংখ্যা বাড়ছে, যা সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা ২০১৯-কে লঙ্ঘন করছে। এই অনিয়মের ফলে রোগীর সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
অনুপস্থিতি ও অপ্রয়োজনীয় প্রস্থানের ফলে রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, এবং কিছু ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় এই বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে, যা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর করেছে।
অধিদপ্তর সকল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ডাক্তার, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি উপস্থিতি রেকর্ডের জন্য বায়োমেট্রিক হজির ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হবে, যাতে কোনো অনিয়ম তৎক্ষণাৎ সনাক্ত করা যায়।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক সিস্টেমের মাধ্যমে দৈনিক উপস্থিতি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করতে হবে। এই তথ্যগুলো নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরে পাঠানো বাধ্যতামূলক, যাতে উচ্চ পর্যায়ের তদারকি সহজ হয়।
বিধিমালা অনুসারে অনিয়মিত উপস্থিতি বা অপ্রয়োজনীয় প্রস্থান ঘটলে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে সেবা মান বজায় রাখা এবং রোগীর অধিকার রক্ষা করা লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যায়, কিছু হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কর্মচারীর অনুপস্থিতি রোগীর অপেক্ষার সময় বাড়িয়ে দিচ্ছিল এবং জরুরি সেবার গতি কমিয়ে দিচ্ছিল। এই পরিস্থিতি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চায় এবং সকল প্রতিষ্ঠানে সমন্বিতভাবে উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করতে বলেছে। বায়োমেট্রিক হজির পাশাপাশি ম্যানুয়াল রেকর্ডের সঠিকতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাসিক ভিত্তিতে উপস্থিতি সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে, যাতে উচ্চ পর্যায়ের তদারকি সহজ হয়। এই প্রতিবেদনগুলোতে অনুপস্থিতি, দেরি, অগ্রিম প্রস্থান ইত্যাদির পরিসংখ্যান অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং সময়মতো বিশ্লেষণ করা হবে।
নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত হলে রোগীর সেবা সময়সীমা কমবে, জরুরি সেবা দ্রুত প্রদান সম্ভব হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে রোগীর সন্তুষ্টি বাড়বে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।
সকল স্বাস্থ্যকর্মীকে আহ্বান জানানো হচ্ছে, নির্দেশনা মেনে চলতে এবং রোগীর অধিকার রক্ষায় সময়মতো কাজ করতে। একসাথে কাজ করলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও গুণগত মান উন্নত হবে, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই নির্দেশনা অনুসরণ করা না হলে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তি আরোপিত হবে, তাই প্রত্যেক কর্মচারীর দায়িত্ব হল উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রোগীর সেবা সর্বোচ্চ মানে প্রদান করা। প্রশাসনের তদারকি শক্তিশালী করা এবং নিয়মের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।



