বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধান ও রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিটের অধীনে লালমনিরহাটে বৃহস্পতিবার ৫৩তম এমওডি রিক্রুট দলের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানটি রিক্রুটদের শারীরিক ও মানসিক প্রশিক্ষণের শেষ ধাপকে চিহ্নিত করে এবং তাদের সেবার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের এয়ার অধিনায়ক, এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। তিনি কুচকাওয়াজের সময় রিক্রুটদের সঙ্গে আলাপ করে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ দায়িত্ব সম্পর্কে নির্দেশনা দেন।
কুচকাওয়াজের সময় প্রধান অতিথি রিক্রুটদের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করেন এবং মার্শাল পাস্টের সালাম গ্রহণ করেন। রিক্রুটদের শৃঙ্খলা, সমন্বয় এবং শারীরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য একটি আকর্ষণীয় মার্চ পাস্ট পরিচালিত হয়, যা উপস্থিত সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
এই সমাপনী অনুষ্ঠানে মোট ৪৮ জন এমওডি রিক্রুটকে সশস্ত্র বাহিনীর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। রিক্রুটদের মধ্যে রাফিউল ইসলামকে শীর্ষ রিক্রুট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ‘চৌকস রিক্রুট ট্রফি’ প্রদান করা হয়। তার পারফরম্যান্স প্রশিক্ষক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রশংসা অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিমানসেনা, এমওডি কর্মী এবং রিক্রুটদের অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিবারিক সমর্থন ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি রিক্রুটদের জন্য উৎসাহের উৎস হিসেবে কাজ করেছে।
প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ রিক্রুটদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা তাদের পেশাগত জীবনের সূচনা চিহ্নিত করে। এই প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম শারীরিক ফিটনেস, শৃঙ্খলা, দলগত কাজ এবং মৌলিক বিমান রক্ষণাবেক্ষণ দক্ষতা গড়ে তুলতে লক্ষ্য করে। সফলভাবে সমাপ্তি পাওয়া রিক্রুটরা এখন বিমান বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে কাজের জন্য প্রস্তুত।
শিক্ষা ক্ষেত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এই ধরনের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম তরুণদের জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ শিক্ষার মডেল প্রদান করে। কঠোর শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে তারা আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো পেশায় প্রয়োগযোগ্য।
যারা বিমান বাহিনীর রিক্রুট হিসেবে যোগ দিতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ রয়েছে। প্রথমে শারীরিক ফিটনেসের উপর গুরুত্ব দিন; নিয়মিত দৌড়, সাঁতার বা জিমে প্রশিক্ষণ রিক্রুটমেন্ট পরীক্ষার জন্য অপরিহার্য। দ্বিতীয়ত, মৌলিক গণিত ও বিজ্ঞান জ্ঞান পুনরায় পর্যালোচনা করুন, কারণ প্রযুক্তিগত কাজের জন্য এই বিষয়গুলো প্রয়োজনীয়। তৃতীয়ত, আত্মশৃঙ্খলা ও সময় ব্যবস্থাপনা দক্ষতা গড়ে তুলুন, কারণ প্রশিক্ষণকালে কঠোর সময়সূচি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। শেষমেশ, পরিবার ও বন্ধুদের সমর্থন নিশ্চিত করুন, কারণ মানসিক সহায়তা দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের চাবিকাঠি।
বিমান বাহিনীর এই সমাপনী কুচকাওয়াজ শুধু রিক্রুটদের সাফল্যের উদযাপন নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা ও আকাশসীমা রক্ষার জন্য নতুন শক্তি গড়ে তোলার প্রতীক। ভবিষ্যতে আরও অনেক তরুণ এই ধরনের প্রশিক্ষণ থেকে উপকৃত হয়ে দেশের সেবা করতে পারবে, এটাই প্রত্যাশা।



