বাংলাদেশের অমর একুশে বইমেলা নির্বাচনের পর রোজার মধ্যে, ২০ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত তারিখে উদ্বোধন হবে। মেলা আয়োজনের দায়িত্বে থাকা বাংলা একাডেমি জানিয়েছে যে, মোট কাজের প্রায় ষাট শতাংশ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
বইমেলা প্রস্তুতির অগ্রগতি প্রকাশের জন্য বাংলা একাডেমির শাহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব সেলিম রেজা উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি লিখিত বিবৃতি উপস্থাপন করেন।
সেলিম রেজা উল্লেখ করেন, গত বছর মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থার সংখ্যা ৫২৭ ছিল। এ বছর নতুনভাবে ৫৩টি প্রকাশনা সংস্থা স্টল আবেদন করেছে। আবেদনপ্রাপ্ত পুরনো ৫২৭টি এবং নতুন ২৪টি সংস্থাকে ইতিমধ্যে স্টল বরাদ্দের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
এছাড়াও, সরকারি ও বেসরকারি শতাধিক প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণের জন্য স্টল চাহিদা জানিয়েছে। এই আবেদনগুলো সম্মেলনে উপস্থাপিত হয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কিছু প্রকাশক ঈদের পর বইমেলা আয়োজনের অনুরোধ জানিয়ে থাকে, তবে মেলা পরিচালনা কমিটি তারিখ পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সেলিম রেজা ব্যাখ্যা করেন, এপ্রিল মাসে তীব্র তাপপ্রবাহ, ধুলোবালির উপদ্রব এবং কালবৈশাখীসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় পুরো মাসব্যাপী মেলা চালানো বাস্তবসম্মত নয়।
প্রকাশকদের এই অনুরোধের পরেও, কমিটি তাদেরকে উৎসাহিত করেছে যে, কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও মেলায় অংশগ্রহণের জন্য এগিয়ে আসতে। মেলার মূল উদ্দেশ্য এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এই আহ্বান করা হয়েছে।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম উল্লেখ করেন, প্রকাশকদের দাবির আলোকে স্টলভাড়া গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও মেলা আয়োজনের সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও অংশগ্রহণকারীদের আর্থিক চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বইমেলা দীর্ঘদিন ধরে একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমি, প্রকাশক এবং অন্যান্য অংশীদারদের সমন্বয়ে মাসব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বই প্রদর্শনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। এই ঐতিহ্যগত মেলা দেশের সাহিত্যিক ও শিক্ষামূলক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে।
অনিবার্য বাস্তবতার কারণে, অন্যান্য বছরের মত এ বছর বইমেলা পহেলা ফেব্রুয়ারিতে শুরু না করে নির্ধারিত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে। এই পরিবর্তন মেলার সময়সূচি এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলবে।
মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশক, লেখক এবং পাঠকরা একত্রিত হয়ে নতুন প্রকাশনা, শিক্ষামূলক উপকরণ এবং সাহিত্যিক আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য এই মেলা একটি বিশাল সুযোগ, যেখানে তারা সরাসরি প্রকাশকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বই নির্বাচন ও কেনাকাটার সুবিধা পাবে।
বইমেলা চলাকালীন বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার এবং পাঠক সভা অনুষ্ঠিত হবে, যা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও শিক্ষামূলক প্রকল্প এবং পাঠ্যপুস্তক সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করবে।
অবশেষে, পাঠকদের জন্য একটি ব্যবহারিক টিপস: মেলায় যাওয়ার আগে অনলাইন মাধ্যমে স্টল তালিকা ও সময়সূচি যাচাই করে পরিকল্পনা করা সুবিধাজনক হবে। এছাড়া, আগাম বুকিং করা হলে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা না করে দ্রুত কেনাকাটা করা সম্ভব।



