গাজা উপত্যকায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (আইএসএফ) অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকে সেনা পাঠানোর বিষয়ে কোনো বাস্তব অগ্রগতি না থাকায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ৫ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট করে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পর্যায়ে বিষয়টি কেবল সম্ভাবনা হিসেবে রয়ে গেছে, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা গঠিত হয়নি।
উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মতে, গাজায় ফোর্স পাঠানোর প্রস্তাবের জন্য এখনো কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “এটি শুধুই একটি উন্মুক্ত সম্ভাবনা, যা ভবিষ্যতে বাস্তবায়িত হতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট অগ্রগতি ঘটেনি।” এধরনের মন্তব্যের পেছনে আন্তর্জাতিক আলোচনার জটিলতা ও বিভিন্ন দেশের স্বার্থের টানাপোড়েন রয়েছে।
হোসেন আরও উল্লেখ করেন, আইএসএফ গঠন প্রক্রিয়া এখনো পরিষ্কার রূপ পায়নি। কিছু দেশ ইতিমধ্যে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তবে একই সঙ্গে অন্য দেশগুলোর থেকে আপত্তি ও সংশয়ও প্রকাশ পেয়েছে। এই দ্বিমুখী অবস্থার কারণে পরিকল্পনাটি এখনও ক্রিস্টালাইজ হয়নি এবং তা বাস্তবে রূপ নিতে সময় লাগবে।
উল্লেখযোগ্য যে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে না। তিনি ভবিষ্যতে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তার স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ কীভাবে এই প্রস্তাবে অংশ নেবে তা নির্ধারিত হবে। তাই, বর্তমান সময়ে কোনো বাধ্যতামূলক সময়সীমা বা চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেই।
এই প্রেক্ষাপটে, গাজা স্থিতিশীলতা বাহিনীতে বাংলাদেশ সরকারের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা প্রথমবারের মতো জানানো হয়নি। তবে, ১০ জানুয়ারি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের একটি বিবৃতিতে তিনি গাজা আইএসএফের অংশ হতে বাংলাদেশের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যালিসন হুকার এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে বৈঠকে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
আন্ডার-সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার এই প্রস্তাবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন এবং মার্কিন সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে ইচ্ছুক তা প্রকাশ করেন। এই কথোপকথনটি গাজা আইএসএফ গঠনের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার মধ্যে বাংলাদেশের ভূমিকা স্পষ্ট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল-গাজা সংঘর্ষের পর, গত বছরের নভেম্বর মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির নিরাপত্তা ও তত্ত্বাবধানের জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) গঠনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ ধাপের পরিকল্পনাকে সমর্থন করে একটি প্রস্তাব পাস করে। এই প্রস্তাবের অংশ হিসেবে গাজা অঞ্চলে শান্তি রক্ষার জন্য বহুমুখী আন্তর্জাতিক সেনা সংযোজনের কথা উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ সরকার এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে এখনও স্পষ্ট অবস্থান নির্ধারণ করেনি। তৌহিদ হোসেনের মন্তব্য অনুসারে, ভবিষ্যতে সরকারী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ গাজা আইএসএফে কীভাবে অবদান রাখবে তা নির্ধারিত হবে। এই অনিশ্চয়তা দেশের পররাষ্ট্র নীতি ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে।
সারসংক্ষেপে, গাজা স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকে সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা গঠিত হয়নি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বিষয়টি কেবল একটি সম্ভাবনা হিসেবে রয়ে গেছে এবং তা বাস্তবায়িত হতে সময় ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের প্রয়োজন। ভবিষ্যতে সরকারী সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশ কীভাবে এই উদ্যোগে যুক্ত হবে তা নির্ধারিত হবে।



