বগুড়া জেলার জয়পুরপাড়ায় অবস্থিত টিএমএসএস পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজে চার দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শেষ হয়ে গিয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্রীড়া শাখায় পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করা হয়।
প্রতিযোগিতার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বগুড়া জেলা বিএনপি সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা উপস্থিত ছিলেন। তিনি সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ক্রীড়া কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে জামায়াত-এ-ইসলামি বগুড়া জেলা শাখার আমির ও অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, এনসিপি বগুড়া জেলার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এমএসএ মাহমুদ এবং টিএমএসএস প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক (অশোকা ফেলো, পিএইচএফ অ্যান্ড একেএস) অধ্যাপিকা ড. হোসনে-আরা বেগমকে সম্মানিত অতিথি হিসেবে স্বাগত জানানো হয়।
টিএমএসএস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশটি পরিচালিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে ডুলেস গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টের সিইও গ্রিন চাষী মো. কামরুজ্জামান মৃধা, টিএমএসএস পরিচালনা পর্ষদের উপদেষ্টা আয়শা বেগম, বিসিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিএম আলী হায়দার, টিএমএসএসের উপ-নির্বাহী পরিচালক সোহরাব আলী খান এবং উপাধ্যক্ষ গুলশান আরা পারভীন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, টিএমএসএসের পরামর্শক ও উপদেষ্টা এবং অন্যান্য প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা শিক্ষার্থীদের মার্স পাস্ট, ক্রীড়া প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন শাখার প্রতিযোগিতা প্রত্যক্ষ করেন।
প্রতিযোগিতার সময় শিক্ষার্থীরা দৌড়, লম্বা লাফ, উচ্চ লাফ, ফুটবল, হ্যান্ডবল এবং অন্যান্য ক্রীড়া শাখায় পারদর্শিতা প্রদর্শন করে। প্রতিটি শাখার বিজয়ী ও সেকেন্ডারি স্থানধারীকে সমাবেশের শেষে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার বিতরণে প্রধান অতিথি ও সম্মানিত অতিথিরা পুরস্কারপত্র ও ট্রফি হাতে তুলে দেন।
বহু শিক্ষার্থী এই সুযোগে দলগত কাজের মানসিকতা গড়ে তুলতে এবং শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে পেরেছেন। তদুপরি, ক্রীড়া কার্যক্রমের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার মনোভাব জাগ্রত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্রীড়া ক্যারিয়ার গড়ার জন্য প্রশিক্ষণ ও সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তারা স্থানীয় ক্লাব ও স্পোর্টস ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে আরও বেশি সুযোগ তৈরি করার আহ্বান জানান।
এই ধরনের বার্ষিক ক্রীড়া ইভেন্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমকে সমৃদ্ধ করে এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। শিক্ষার্থীরা ক্রীড়া মাধ্যমে নেতৃত্বের গুণাবলি শিখে এবং দলগত কাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করে।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: যদি আপনার সন্তান বা পরিচিত কেউ ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে চায়, তবে স্থানীয় স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সময়সূচি অনুসরণ করে আগেই নিবন্ধন করিয়ে নিন। এছাড়া, নিয়মিত শারীরিক প্রশিক্ষণ এবং সঠিক পুষ্টি বজায় রাখলে ক্রীড়া পারফরম্যান্সে উন্নতি সম্ভব।
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শেষ হলেও টিএমএসএস পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের ক্রীড়া সংস্কৃতি অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।



