সেক্রেটারিয়েটে আজ নাফিস আহমেদ নাদভী আইন উপদেষ্টা নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে বিশদভাবে জানালেন, যেখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের উভয়ের অনুপস্থিতি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান অনুসারে শপথের দায়িত্ব স্পিকারের, আর স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকারের ওপর অর্পিত হয়। উভয় পদাধিকারী অক্ষম হলে সংবিধানিক বিধান অনুযায়ী অন্য কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণে নিযুক্ত হতে পারেন।
বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষভাবে অস্বাভাবিক, কারণ স্পিকারের একজন অনুপস্থিত এবং অন্যজন কারাগারে আটক, উভয়েই গুরুতর মামলায় জড়িত। এ কারণে তারা শপথ গ্রহণের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম নয়, বলে নাফিস আহমেদ নাদভী জোর দিয়ে বলেন।
সংবিধানিক বিধান অনুসারে, যদি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের দুজনেই শপথ নিতে না পারেন, তবে প্রেসিডেন্ট, প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে, একটি ব্যক্তিকে নিযুক্ত করতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই নিযুক্ত ব্যক্তি হতে পারেন দেশের প্রধান বিচারপতি, যাকে তিনি উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করেছেন।
তাছাড়া, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে শপথ না হলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে শপথ গ্রহণের অধিকার প্রদান করা হয়েছে। নাফিস আহমেদ নাদভী এ বিষয়ে বলেন, এই ধারা সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থা প্রদান করে, তবে তা শেষ মুহূর্তে প্রয়োগ হতে পারে।
সরকারের প্রধান লক্ষ্য দ্রুত শপথের ব্যবস্থা করা, যাতে সংসদিক কার্যক্রমে বিলম্ব না হয়। তিনি উল্লেখ করেন, তিন দিনের অপেক্ষা করা সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে অনুকূল নয়, কারণ তা সংসদের কাজ শুরুতে দেরি ঘটাবে।
উপদেষ্টা নাফিস আহমেদ নাদভী বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নীতি স্তরের বিষয় এবং তিনি তা নির্ধারণ করতে পারবেন না। তবে তিনি দুইটি সম্ভাব্য বিকল্প তুলে ধরেছেন: প্রেসিডেন্টের নিযুক্ত ব্যক্তি অথবা তিন দিনের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপ।
অবশেষে, নাফিস আহমেদ নাদভী জানান, তিনি সংবিধানিক বিধান পুনরায় পর্যালোচনা করে তার চূড়ান্ত মতামত প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসকে জানাবেন। এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের সময়সূচি নির্ধারিত হবে।
শপথের দ্রুত সম্পন্ন হওয়া দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আইনসভার কার্যকরী শুরু নিশ্চিত করবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।



