অন্তর্বর্তী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৃহস্পতিবারের বৈঠকে রমজান মাসে সকল সরকারি, আধা‑সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা‑স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩:৩০ পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হল রমজানকালে কর্মচারীদের উপবাসের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা।
বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি আলোচনা করা হয়। সভায় উপস্থিত উপদেষ্টা সদস্যরা অফিস সময়ের পরিবর্তনকে ধর্মীয় চর্চার সঙ্গে সমন্বয় করার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে তুলে ধরেন এবং সংশোধিত সময়সূচি অনুমোদন করেন।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী কর্মদিবসে সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩:৩০ পর্যন্ত কাজ করা হবে, যার মধ্যে জোহরের নামাজের জন্য দুপুর ১টা থেকে ১:৩০ পর্যন্ত বিরতি থাকবে। এই বিরতি কর্মচারীদের নামাজের সময় পূর্ণভাবে ব্যবহার করার সুযোগ দেবে এবং উপবাসের সময় শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে সহায়তা করবে।
বৈঠকের পর, রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের মাধ্যমে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। শফিকুল আলম জানিয়েছেন যে, রমজান মাসে অফিস সময়ের এই পরিবর্তনটি সরকারী নীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে এবং সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তা অনুসরণ করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সময়সূচি প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে।
অনুমোদনের পর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি ও অর্ধ‑সরকারি প্রতিষ্ঠানে নতুন সময়সূচি কার্যকর হবে। এই প্রক্রিয়াটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক এবং সংস্থাগুলোকে তা মেনে চলতে হবে।
রমজান মাসের সূচনা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই রমজান ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। চাঁদ দেখার ফলাফল অনুযায়ী রমজানের প্রথম দিন নির্ধারিত হবে এবং তদনুযায়ী অফিস সময়ের পরিবর্তন কার্যকর হবে।
কিছু সংস্থার কর্মচারী ও ইউনিয়ন প্রতিনিধিরা সময়সূচি পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ করে যারা শিফট ভিত্তিক কাজ করেন বা জরুরি সেবা প্রদানকারী বিভাগে কাজ করেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, কাজের চাপ এবং সেবা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। তবে সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে যে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক প্রভাবও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। রমজান মাসে সরকারী কর্মঘণ্টা কমিয়ে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা বিবেচনা করা একটি সামাজিক নীতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে পারে। একই সঙ্গে, বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপকে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে। ভবিষ্যতে, সরকার যদি রমজান ছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় ছুটির জন্যও অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে তা সরকারি নীতি প্রণয়নে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, রমজান মাসে অফিস সময়ের পরিবর্তনটি সরকারী অনুমোদন পেয়েছে, প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক হবে এবং ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হলে তা কার্যকর হবে। কর্মচারীদের ধর্মীয় চর্চা সহজতর করার পাশাপাশি সরকারি সেবা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।



