22 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবগুড়ার আটাপাড়ায় নিষিদ্ধ রঙ মিশ্রিত শিশুখাদ্য উৎপাদনে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

বগুড়ার আটাপাড়ায় নিষিদ্ধ রঙ মিশ্রিত শিশুখাদ্য উৎপাদনে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, বিকাল প্রায় তিনটায় বগুড়া শহরের আটাপাড়া এলাকায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয় একটি উৎপাদন ইউনিটে অভিযান চালায়। অভিযানের লক্ষ্য ছিল স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের সম্ভাব্য প্রমাণ সংগ্রহ করা। তদন্তের সময় মেসার্স আবিদ ট্রেডার্সের কারখানায় প্রবেশ করে, যেখানে নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রঙ ব্যবহার করে শিশুখাদ্য তালমিছরি তৈরির অভিযোগ পাওয়া যায়।

অভিযানটি ঘণ্টাব্যাপী চলার পর, পরিদর্শকরা নিশ্চিত হন যে উৎপাদন লাইনে টেক্সটাইল শিল্পে ব্যবহৃত রঙকে খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে তালমিছরি তৈরি করা হচ্ছিল। এই রঙগুলো খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ডের বিপরীতে এবং শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি স্বরূপ। রঙের উপস্থিতি সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট রসায়নীয় উপাদানের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, উৎপাদন স্থানের পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা। মেশিন ও কর্মস্থল পরিষ্কারের অভাব, ধুলো ও কচি বর্জ্যের উপস্থিতি স্পষ্ট ছিল। তদুপরি, তালমিছরি প্যাকেটজাত করার জন্য ব্যবহৃত মোড়কগুলো নকল হিসেবে চিহ্নিত হয়, যা ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্য নির্দেশ করে। নকল প্যাকেজিংয়ের সঙ্গে যুক্ত লেবেল ও মুদ্রণেও অবৈধ রঙের ব্যবহার পাওয়া যায়।

অধিক তদন্তে প্রকাশ পায় যে একই ধরনের ক্ষতিকর রঙ চানা চুর, সেমাই ও বুন্দিয়া তৈরির প্রক্রিয়াতেও ব্যবহার করা হচ্ছিল। এই স্ন্যাকসগুলো স্থানীয় বাজারে ব্যাপকভাবে বিক্রি হয় এবং শিশু ও কিশোরদের প্রিয়। রঙের অবৈধ ব্যবহার সেসব পণ্যের স্বাদ, রঙ ও গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

উপরোক্ত লঙ্ঘনগুলোকে ভিত্তি করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মেসার্স আবিদ ট্রেডার্সকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেন। জরিমানার পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট সকল অনিরাপদ শিশুখাদ্য ও রঙযুক্ত উপকরণ আইন অনুযায়ী জব্দ করে, জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়। ধ্বংসের কাজটি নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে এবং স্থানীয় মিডিয়ার নজরে অনুষ্ঠিত হয়, যাতে জনসাধারণকে সতর্ক করা যায়।

অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা রাসেল এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তারা现场ে নিরাপত্তা বজায় রাখতে, প্রমাণ সংগ্রহ করতে এবং জব্দকৃত সামগ্রী সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে প্রতিরোধমূলক প্রভাব ফেলে।

অধিক তদন্তের জন্য বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনি বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, জরিমানার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীকে আরও কঠোর শাস্তি দেওয়া হতে পারে। ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে নিয়মিত নজরদারি ও অডিট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই ঘটনা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ডের প্রতি কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। স্থানীয় উৎপাদন ইউনিটগুলোকে আইন মেনে চলতে এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভোক্তাদের জন্যও সতর্কবার্তা রয়েছে। বাজারে বিক্রি হওয়া স্ন্যাকসের প্যাকেজিং পরীক্ষা করে, লেবেল ও মুদ্রণের স্বচ্ছতা যাচাই করে কেনা উচিত। সন্দেহজনক পণ্য পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সামগ্রিকভাবে, বগুড়া জেলার এই অভিযান খাদ্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের হার কমাতে সহায়তা করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments