পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বৃহস্পতিবার ঢাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় interim সরকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি ও নীতিমালা নিয়ে বিশদ মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তিগুলো স্বাক্ষর করছে, সেগুলো পরবর্তী সরকারের জন্য বোঝা হবে না, বরং কাজের পরিধি সহজ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
হোসেনের মতে, গত দেড় বছরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়া সত্ত্বেও, নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হয়ে ফিরে আসবে। তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সময়ে বিনিয়োগের গতি ধীর হলেও, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছ নীতি গঠন হলে প্রবাহ পুনরায় শুরু হবে।
ভিসা বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে হোসেন স্বীকার করেন, বাংলাদেশিদের ভিসা প্রদান প্রক্রিয়ায় বর্তমানে জটিলতা দেখা দিচ্ছে এবং তা সম্পূর্ণ সিস্টেমের দায়িত্ব। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হিসেবে এই দোষ স্বীকার করতে অস্বীকার করেন, বরং পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, হোসেন জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রচুর সুযোগ রয়েছে, তবে সেগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার না করলে দেশের ক্ষতি হয়। তিনি ভিসা জালিয়াতির উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন, কাগজের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা রয়েছে, যা দেশের সুনামকে ক্ষুণ্ন করে। “যদি কোনো নারী মেইডের চাকরিতে গিয়ে ভিসা ফ্রন্ট অফিসার ম্যানেজার হিসেবে দেওয়া হয়, তবে তা স্পষ্টভাবে ধাপ্পাবাজি,” তিনি বলেন।
এই ধরনের সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভিসা নীতি সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা হোসেন উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দেন। তিনি সতর্ক করেন, যদি সিস্টেমের ঘর না গোছানো হয়, তবে সমস্যার পরিসর বাড়তে পারে এবং অতিরিক্ত দুঃসময় দেখা দিতে পারে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়েও হোসেনের মন্তব্য শোনা যায়। তিনি স্বীকার করেন, ভারতীয় পার্শ্বের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বর্তমান সময়ে তা থমকে আছে। “আমরা গুড ওয়ার্কিং রিলেশন চেয়েছি, তবে সম্পর্কের অগ্রগতি সীমিত,” তিনি বলেন। দুই দেশের স্বার্থের পার্থক্যের কারণে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তবে তিনি কোনো পক্ষকে দোষারোপ না করে উভয় দেশের স্বার্থকে স্বীকার করার কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মসৃণ না থাকলেও, হোসেন আশাবাদ প্রকাশ করেন যে পরবর্তী সরকার এই সম্পর্ককে পুনরায় সুগম করতে সক্ষম হবে। তিনি ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে আনার সম্ভাবনা উল্লেখ করে, তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে জোর দেন।
সারসংক্ষেপে, তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে interim সরকারের চুক্তিগুলো পরবর্তী সরকারের জন্য বাধা নয়, বরং কাজের পরিবেশ সহজ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগের ধীর গতি সত্ত্বেও, নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ পুনরায় জাগবে বলে তিনি আশাবাদী। ভিসা নীতি ও জালিয়াতি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে সিস্টেমিক রিফরমের প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেছেন। শেষ পর্যন্ত, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নে পরবর্তী সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে, যা দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়তা করবে।



