লস এঞ্জেলেসের ক্রিপ্টো.কম আরেনায় ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠানে বিলি ইলিশ তার গানের জন্য সেরা গানের পুরস্কার গ্রহণ করেন। ২৪ বছর বয়সী গায়িকা তার স্বীকৃতি বক্তৃতায় অভিবাসন নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমি সম্পর্কিত বিষয় উত্থাপন করেন। একই সময়ে তার ভাই ফিনিয়াস ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে উচ্চপদস্থ পুরুষ নেতাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করেন।
বিলি ইলিশ ‘হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট’ অ্যালবামের ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ার’ গানের জন্য গ্র্যামি সেরা গানের পুরস্কার জিতেছেন। এই বিজয় তার একক গ্র্যামি পুরস্কারের সংখ্যা এগারোতে বৃদ্ধি করে। পুরস্কারটি গীতিকারের কিংবদন্তি ক্যারোল কিং উপস্থাপন করেন, আর ইলিশের সঙ্গে তার সঙ্গীত সঙ্গী ও ভাই ফিনিয়াস উপস্থিত ছিলেন।
বক্তৃতায় ইলিশ যুক্তরাষ্ট্রের আদিবাসী ভূমির ওপর মন্তব্য করে বলেন, ‘চুরি করা ভূমিতে কেউই অবৈধ নয়’। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা আইসিই (ICE)‑এর নীতি ও কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করেন এবং ‘আইসিই‑কে ধিক্কার’ শব্দটি ব্যবহার করে তার বিরোধ প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যের শেষে তিনি ‘ফ—ক আইসিই’ বলে শেষ করেন, যা শোয়ের পর দর্শকদের মধ্যে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করে।
ইলিশ এবং উপস্থিত বেশিরভাগ দর্শকই ‘আইসিই আউট’ পিন পরিধান করে ছিলেন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি বিরোধী প্রতিবাদকে নির্দেশ করে। জানুয়ারিতে আইসিই‑এর কার্যক্রমে দুই আমেরিকান নাগরিকের মৃত্যু ঘটার পর এই পিনটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। ইলিশের এই দৃশ্যমান প্রতিবাদ তার সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের অভিবাসন নীতি সমালোচনার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যায়।
ইলিশের বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর ফিনিয়াস ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে তার বোনের বক্তব্যে ‘অনেক শক্তিশালী পুরনো সাদা পুরুষ’ রাগান্বিত হয়েছে। তিনি ইন্টারনেটের আলোচনায় এপস্টেইন ফাইলের নাম উল্লেখ করে সমালোচনার তীব্রতা বাড়িয়ে তোলেন। এই মন্তব্য দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মতামত উত্থাপিত হয়।
ফিনিয়াসের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা সরাসরি দেখতে পাচ্ছি যে এই পুরনো, ক্ষমতাশালী সাদা পুরুষদের নাম এপস্টেইন ফাইলের তালিকায় রয়েছে’। এই রূপক বাক্যটি ইলিশের বক্তৃতার প্রতি কিছু ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির অস্বস্তি প্রকাশের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। পোস্টটি প্রকাশের পর অনলাইন ব্যবহারকারীরা ইলিশের বক্তব্যের সমর্থন ও বিরোধিতা উভয়ই প্রকাশ করে।
বিলি ইলিশ সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা চালিয়ে আসছেন। তিনি আইসিই‑কে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ বলে অভিহিত করেন, বিশেষ করে ৩৭ বছর বয়সী কবি রেনি নিকোল গুডের মৃত্যুর পর, যাকে আইসিই‑এর কার্যক্রমে নিহত করা হয়েছিল। গুডের মৃত্যু ইলিশের সমালোচনার মূল উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায় এবং তার বক্তৃতায় এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
ইলিশের বক্তব্যের পাশাপাশি জানুয়ারিতে দুই আমেরিকান নাগরিকের মৃত্যু ঘটার পর আইসিই‑এর কার্যক্রমের কঠোরতা বাড়ার খবরও প্রকাশ পায়। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ইলিশের ‘আইসিই‑কে ধিক্কার’ মন্তব্যকে অনেকেই এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখেন।
গ্র্যামি অনুষ্ঠানে ইলিশের স্বীকৃতি বক্তৃতা ও ফিনিয়াসের ইনস্টাগ্রাম মন্তব্য দুটোই শিল্প ও রাজনৈতিক আলোচনার সংযোগ স্থাপন করেছে। ইলিশের সঙ্গীতের সাফল্য এবং তার সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থান উভয়ই মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। এই ঘটনাগুলি ভবিষ্যতে শিল্পী ও রাজনৈতিক নীতি নিয়ে আরও গভীর আলোচনা উন্মুক্ত করতে পারে।



