সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত এক সভায় একুশে পদকের প্রাপ্য তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকে মোট দশজন ব্যক্তি ও একটি ব্যান্ডকে দেশের বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে সম্মানিত করা হবে।
প্রেস কনফারেন্সটি রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম নির্বাচিতদের নাম প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই বছর একুশে পদক সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে প্রদান করা হবে।
প্রদত্ত পদকের তালিকায় চলচ্চিত্র শিল্পের আইকনিক চিত্রনায়িকা ববিতা অন্তর্ভুক্ত। তিনি বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগে তার অসামান্য অভিনয় ও অবদানের জন্য এই সম্মান পেয়ে গর্বিত হয়েছেন।
সাংবাদিকতা ক্ষেত্রে শফিক রেহমানের নাম তালিকায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ উপস্থাপন ও বিশ্লেষণে অবদান রেখেছেন।
সঙ্গীতের জগতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর)কে সম্মানিত করা হয়েছে। তার সৃষ্টিগুলো আধুনিক বাংলা গানের ধারাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং তরুণ শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে চলেছে।
চিত্রকলা ও চিত্রশিল্পে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তারকে একুশে পদক প্রদান করা হবে। তিনি বহু বছর ধরে শিল্প শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে আসছেন এবং তার শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে স্বীকৃতি পায়।
নাট্যকলার ক্ষেত্রে ইসলাম উদ্দিন পালাকারকে সম্মানিত করা হয়েছে। তিনি নাট্য রচনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে বাংলা থিয়েটারকে সমৃদ্ধ করেছেন।
শিক্ষা ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদারকে একুশে পদক দেওয়া হবে। তার গবেষণা ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
স্থাপত্যের ক্ষেত্রে মারিনা তাবাসসুমের নাম তালিকায় রয়েছে। আধুনিক ও টেকসই নকশার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করেছেন।
ভাস্কর্য শিল্পে তেজস হালদার জসের অবদান স্বীকৃত হয়। তার কাজগুলো ঐতিহ্যবাহী রূপকে আধুনিক দৃষ্টিতে পুনর্গঠন করে দর্শকদের মুগ্ধ করে।
নৃত্যশিল্পে অর্থী আহমেদকে একুশে পদকের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়েছে। তিনি সমসাময়িক নৃত্যের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক সংলাপ গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ব্যান্ড ওয়ারফেজকে এই বছর একুশে পদকের মাধ্যমে সম্মানিত করা হবে। রক সঙ্গীতের ধারায় তাদের দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য ও সৃজনশীলতা দেশের সঙ্গীত সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগিয়েছে।
একুশে পদকের চূড়ান্তকরণ সভার সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সভায় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, ফওজুল কবির খান ও আসিফ নজরুল, পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
এই পদক বিতরণে দেশের বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিরা একত্রিত হয়েছেন, যা সংস্কৃতি ও শিল্পের সমন্বিত উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে দেখা যায়। সরকার এই ধরনের স্বীকৃতির মাধ্যমে সৃজনশীল কর্মীদের উৎসাহিত করতে চায় এবং ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রতিভা উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একুশে পদক দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আধুনিক সৃজনশীলতার সংযোগস্থল। এইবারের নির্বাচিতদের মধ্যে পুরুষ ও নারী, জীবিত ও মরণোত্তর শিল্পী, এবং বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধিত্বকারী ব্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি, দেশের বহুমুখী শিল্পপ্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
সর্বশেষে, মন্ত্রণালয় এই পদক প্রদানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ইভেন্ট হিসেবে তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি শিল্পী ও সৃষ্টিকর্তাকে এই সম্মান অর্জনের সুযোগ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।



