ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – জামাতের জাতীয় আমির তানভীর আহমেদ নওগাঁ জেলার একটি জনসভায় তার ওপর বাড়তে থাকা রাজনৈতিক চাপের কথা জানিয়ে বলেন, প্রতিবাদকারীরা এখন তার লক্ষ্যবস্তু হয়ে মিসাইলের মতো আক্রমণ চালাচ্ছেন। এই মন্তব্যটি জামাতের শাখা সমাবেশে করা হয়, যেখানে উপস্থিত সমর্থক ও নেতারা তার বক্তব্যে তালি দিয়ে সাড়া দেন। তানভীরের এই মন্তব্যের পেছনে চলমান নির্বাচনী উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি রয়েছে।
তানভীর আহমেদের ভাষণটি নওগাঁয়ের একটি বড় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় জামাতের কর্মীরা এবং সাধারণ মানুষ সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েক মাসে জামাতের কর্মীরা বিভিন্ন রূপে সরকারের নীতির বিরোধিতা করে আসছেন এবং এখন সেগুলো শারীরিক হুমকিতে রূপান্তরিত হয়েছে। তানভীরের মতে, কিছু সমর্থক গোপনে অস্ত্র সংগ্রহ করে তার ওপর সরাসরি আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করছেন।
এই মন্তব্যের সময় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ তীব্র উত্তেজনায় পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, এবং প্রধান দুই দল – আওয়ামী লীগ ও বিএনপি – একে অপরের ওপর অভিযোগের স্রোত চালাচ্ছে। তানভীরের বক্তব্যকে কিছু বিশ্লেষক সরকারী নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, আর অন্যদিকে জামাতের সমর্থকরা এটিকে সরকারের রাজনৈতিক দমনমূলক নীতির ফলাফল বলে দাবি করছেন।
তানভীর আহমেদ স্পষ্ট করে বলেন, “আন্দোলনের সঙ্গীরাই এখন আমার ওপর মিসাইল ছুঁড়ছে” এবং এই কথাটি তিনি তার নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রকাশ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার গাড়ি ও বাড়ির আশেপাশে অজানা বস্তু ও ধ্বংসাত্মক পদার্থের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা তার নিরাপত্তা সংস্থাকে সতর্ক করেছে। তানভীরের এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত গার্ড ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ই তানভীরের মন্তব্যকে অযৌক্তিক ও উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে খণ্ডন করেছে। আওয়ামী লীগের একটি মুখপাত্র বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার নিরাপত্তা নিয়ে এমন অযথা মন্তব্য করা সমাজের শৃঙ্খলা নষ্ট করে” এবং নিরাপত্তা সংস্থার ওপর দায়িত্ব আরোপ করেছেন। বিএনপি নেতৃবৃন্দও একই রকম মন্তব্য করে, “রাজনৈতিক বিরোধিতা নিরাপত্তা হুমকি নয়, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা উচিত”।
বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। গৃহ নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, তানভীরের গাড়ি ও বাড়ির আশেপাশে সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া গিয়ে তা নিরাপদে নিষ্কাশন করা হয়েছে। এছাড়া, স্থানীয় পুলিশ তানভীরের নিরাপত্তা রক্ষায় অতিরিক্ত পেট্রোলিং চালু করেছে এবং সম্ভাব্য হুমকি সনাক্ত করতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তানভীরের এই মন্তব্যের ফলে জামাতের সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে পারে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন কৌশল গড়ে তুলতে পারে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, নিরাপত্তা উদ্বেগের ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের সমর্থন জোরদার করার চেষ্টা করতে পারে, যা নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা সংস্থার ত্বরিত পদক্ষেপ ভোটারদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
জামাতের রাজনৈতিক অবস্থান ও ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ অস্বাভাবিক নয়। অতীতেও জামাতের নেতারা রাজনৈতিক বিরোধের সময় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছেন, তবে তানভীরের মন্তব্যে ব্যবহৃত “মিসাইল” শব্দটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই শব্দটি ব্যবহার করে তিনি নিরাপত্তা হুমকির তীব্রতা ও জরুরিতা প্রকাশ করতে চেয়েছেন।
তানভীর আহমেদ উল্লেখ করেন, তিনি এবং তার পরিবার নিরাপদে থাকতে সরকারী ও নিরাপত্তা সংস্থার সহায়তা প্রত্যাশা করছেন। তিনি আরও বলেন, “যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে আমাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা আসবে” এবং এই পরিস্থিতি সমাধানের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পরবর্তী সপ্তাহে নওগাঁতে আরও একাধিক জামাতের সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে তানভীরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সময় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে, এবং সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই এই বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করবে।
সারসংক্ষেপে, তানভীর আহমেদের মন্তব্য জামাতের রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে নিয়ে এসেছে। নিরাপত্তা সংস্থার ত্বরিত পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক মন্তব্যের মাধ্যমে এই বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক বিরোধকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে।



