যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য রিপাবলিকান পার্টির টিকেটের সম্ভাব্য উত্তরসূরী হিসেবে জেডি ভ্যান্স এবং মার্কো রুবিও উভয়েরই নাম শীর্ষে রয়েছে। তবে বর্তমান সময়ে রিপাবলিকান পার্টির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কোনো প্রার্থীকে সমর্থন জানাতে অস্বীকার করেছেন। এই অবস্থান ভবিষ্যৎ প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে কোনো নামের পক্ষে না গিয়ে বললেন, “আমি দুইজনকে অসাধারণ কাজ করতে দেখছি, তবে আমি এখন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।” তিনি দুজনেরই পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করে, কোনো লড়াই বা বিতর্কের ইঙ্গিত না দিয়ে বিষয়টি শেষ করেন।
রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে বেশিরভাগ নেতা ভ্যান্স ও রুবিওকে সম্ভাব্য টিকেটের শীর্ষপ্রার্থী হিসেবে দেখছেন। ওহাইওর সাবেক সেনেটর জেডি ভ্যান্সের নাম বিশেষভাবে উঁচুতে রয়েছে, এবং তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ভ্যান্সের মতে, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট দৌড়ের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন।
মার্কো রুবিও, ফ্লোরিডার সাবেক সেনেটর, ২০১৬ সালে একবার রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী দৌড়ে অংশ নেন, তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের সমর্থন পেতে পারেননি। রুবিও ২০২৮ সালের নির্বাচনে আবার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বাদ দেননি এবং ভ্যান্সের ক্ষমতাকে প্রশংসা করেছেন। তার মন্তব্যে তিনি উভয়কে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে রুবিওর সম্পর্কের দিক থেকে, রুবিও পূর্বে ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো সরাসরি সমঝোতা না করলেও, রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে তার কূটনৈতিক দক্ষতা নিয়ে ইতিবাচক মতামত রয়েছে। ট্রাম্পও রুবিওকে “কূটনৈতিকভাবে বেশি দক্ষ” বলে প্রশংসা করেন এবং তাকে “খুবই বুদ্ধিমান” বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের পূর্ববর্তী মন্তব্যে তিনি দুজনের একসঙ্গে একই টিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি দুজনের পারস্পরিক শক্তি ও দুর্বলতা তুলে ধরে, কোনো একক প্রার্থীর পক্ষে না গিয়ে সমতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। এই অবস্থান রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।
ভ্যান্স ও রুবিও উভয়েরই কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পটভূমি ভিন্ন, যা রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। ভ্যান্সের অভিজ্ঞতা ও রুবিওর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক দক্ষতা পার্টির বিভিন্ন সেক্টরে সমর্থন অর্জনে সহায়ক হতে পারে। ট্রাম্পের এই সমতা বজায় রাখার পদ্ধতি উভয় প্রার্থীরই সমর্থক গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে পারে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, ভ্যান্সের সমর্থকরা তার অভ্যন্তরীণ নীতি ও ভোটার ভিত্তি নিয়ে আশাবাদী, যেখানে রুবিওর সমর্থকরা তার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অভিজ্ঞতা ও কূটনৈতিক দক্ষতাকে মূল শক্তি হিসেবে দেখছেন। উভয় গোষ্ঠীরই দাবি যে, রিপাবলিকান পার্টি একটি সমন্বিত টিকেটের মাধ্যমে জাতীয় স্তরে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখতে পারবে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, ট্রাম্পের অপ্রকাশিত সমর্থন উভয় প্রার্থীরই ক্যাম্পেইন কৌশলে প্রভাব ফেলবে। যদি ট্রাম্পের সমর্থন শেষ পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে যায়, তবে তা পার্টির অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্যকে পরিবর্তন করতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের নিরপেক্ষ অবস্থান উভয় প্রার্থীরই স্বতন্ত্র প্রচার চালানোর সুযোগ তৈরি করবে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, রিপাবলিকান পার্টি ২০২৪ সালের প্রাথমিক নির্বাচনের মাধ্যমে টিকেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। উভয় প্রার্থীই বিভিন্ন রাজ্যে প্রচার চালিয়ে ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা করবে। ট্রাম্পের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, পার্টির অভ্যন্তরে আলোচনার তীব্রতা বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থীকে টিকেটের জন্য বাছাই করা হবে তা নির্ধারণে ট্রাম্পের সমর্থন একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হতে পারে।



