বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বৃহস্পতিবার জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে সতর্কতা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে জাতীয়তাবাদী শক্তির ভিত্তি নষ্ট করার কোনো প্রচেষ্টা সফল হবে না। রিজভীর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল, আসন্ন নির্বাচনে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে জনমতকে সঠিক পথে পরিচালিত করা।
এই অনুষ্ঠানটি জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজন করে, যা নির্বাচনের আগে সমাজের বিভিন্ন স্তরে সচেতনতা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়। জাসাসের সদস্য ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মী উপস্থিত ছিলেন, যাতে তাদের সৃজনশীল শক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচারকে মোকাবিলা করা যায়। রিজভী এই সংস্থার নেতৃত্বকে বিশেষভাবে সমর্থন জানিয়ে, তাদের প্রচেষ্টাকে দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
রিজভী বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে প্রোপাগান্ডা বটের ব্যবহার বাড়ছে, যা মানুষের চরিত্রহানি ও কুৎসা রটনার কাজ করে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বটগুলো সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে জনমতকে বিকৃত করার চেষ্টা করে। এ ধরনের পরিকল্পিত প্রচারকে রোধ করতে তথ্যের সঠিকতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি, তা না হলে নির্বাচনের ফলাফল বিকৃত হতে পারে।
বিএনপির সিনিয়র নেতা জোর দিয়ে বলেন, যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং আওয়ামী লীগের ছদ্মবেশে লুকিয়ে নেই, তাদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি অতীতের সংগ্রামীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে, বর্তমান প্রজন্মকে ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান জানান। রিজভী যুক্তি দেন, সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে গড়ে তোলা শক্তি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তবে কোনো প্রোপাগান্ডা তা ভেঙে ফেলতে পারবে না।
কবিতা, সাহিত্য, চিত্রকলা, সঙ্গীত ও অভিনয়ের ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রিজভী বিশেষভাবে আহ্বান করেন, যাতে তারা তাদের সৃজনশীল শক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে। তিনি বলেন, কবি, গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীরা তাদের শব্দের মাধ্যমে জনগণের মনোভাব গঠন করতে সক্ষম। এইসব শক্তিশালী কণ্ঠস্বরকে একত্রিত করে প্রোপাগান্ডা বিরোধী একটি সমন্বিত প্রচার চালানো সম্ভব হবে। রিজভী আশা প্রকাশ করেন, এধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগে জনগণ সত্যের পথে ফিরে আসবে।
জাসাসের নেতাকর্মীদের প্রতি রিজভীর বার্তা ছিল, প্রচলিত রাজনীতির পদ্ধতি অনুসরণ না করে নতুন ধাঁচের রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ছাড়িয়ে আধুনিক ও সৃজনশীল পন্থা গ্রহণ করা দেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয়। এ ধরনের পরিবর্তন যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। রিজভী এই দৃষ্টিকোণ থেকে জাসাসের সদস্যদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহিন, আয়োজক সংস্থার সভাপতি চিত্রনায়ক হেলাল খান, কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন এবং অন্যান্য স্তরের নেতাকর্মী। এই নেতারা রিজভীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে, প্রোপাগান্ডা মোকাবিলায় সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। উপস্থিত সবাই একসাথে মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
রিজভীর মন্তব্যের পটভূমিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে, যেখানে তথ্যের সঠিকতা ও জনমতের স্বচ্ছতা মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে মিথ্যা প্রচারকে দমন করা না হলে ভোটারদের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হতে পারে। তাই সকল রাজনৈতিক দলকে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে, তা না হলে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিএনপি এই মুহূর্তে তথ্যের সঠিকতা ও প্রোপাগান্ডা বিরোধী কৌশলকে কেন্দ্র করে একটি ব্যাপক পরিকল্পনা চালু করার ইঙ্গিত দিয়েছে। রিজভীর বক্তব্যের মাধ্যমে দলটি জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে চায়, যাতে মিথ্যা তথ্যের প্রভাব কমে। তিনি আশাবাদী যে, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।
সামগ্রিকভাবে রিজভীর বক্তব্য নির্বাচনী সময়ে তথ্যের সঠিকতা, সাংস্কৃতিক শক্তি এবং নতুন রাজনৈতিক পদ্ধতির সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রোপাগান্ডা বট ও মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে একসাথে লড়াই করলে জাতীয়তাবাদী শক্তি দৃঢ় হবে এবং গণতন্ত্রের সঠিক পথ বজায় থাকবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সকল সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।



