ইরান তাসনিম নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাঁচ ধাপের সামরিক ও কূটনৈতিক পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। পরিকল্পনা শুক্রবারে ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে প্রকাশিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের দাবি, এই কৌশল শুধুমাত্র সামরিক নয়, বিশ্ব অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে।
প্রকাশিত নথি ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর আইআরজিসি সংযুক্ত, যেখানে পাঁচটি নির্দিষ্ট ধাপের বর্ণনা রয়েছে। প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিমান হামলার মোকাবিলার জন্য পারমাণবিক সুবিধা ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোকে গভীর বাংকারে সুরক্ষিত করা হয়েছে। ইরান উল্লেখ করেছে যে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ চালায়, তারা প্রতিহত করার চেয়ে পাল্টা আঘাতের জন্য প্রস্তুতি বাড়াবে।
দ্বিতীয় ধাপে ইরান তার ভূখণ্ডের বাইরে যুদ্ধের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে শত শত ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোনের নকশা তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের সক্রিয় করে ইসরায়েলসহ মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধে চতুর্মুখী আক্রমণ চালানোর কথা পরিকল্পনায় উল্লেখ আছে।
তৃতীয় ধাপে সাইবার যুদ্ধকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ গ্রিড, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সামরিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে সাইবার আক্রমণ চালিয়ে আমেরিকানদের মনোবল ভেঙে দেওয়া তাদের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে। এই ধাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা দুর্বল করার পরিকল্পনা স্পষ্ট।
চতুর্থ ধাপে হরমুজ প্রণালীর ওপর হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ব তেলের প্রায় ২১ শতাংশ সরবরাহ করে। ইরান দাবি করে, যদি এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ বন্ধ করা যায়, তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলার অতিক্রম করতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব ফেলবে। এই হুমকি ব্যবহার করে ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ সৃষ্টি করার লক্ষ্য রাখে।
পঞ্চম ধাপের বিশদ প্রকাশ না করলেও, নথিতে উল্লেখ আছে যে পরিকল্পনা মোট পাঁচটি ধাপ নিয়ে গঠিত। পঞ্চম ধাপের বিষয়বস্তু গোপন রাখা হয়েছে, যা ইরানের কৌশলগত গোপনীয়তা রক্ষার ইঙ্গিত দেয়।
ইরানের এই পরিকল্পনা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সতর্ক করেছেন, যাতে তিনি কোনো সামরিক পদক্ষেপে অগ্রসর না হন। ট্রাম্পের সতর্কবার্তা ইরানের আক্রমণাত্মক কৌশলকে আরও তীব্র করেছে।
ওমানে নির্ধারিত বৈঠকটি এখন ইরানের পরিকল্পনা প্রকাশের পর নতুন দৃষ্টিকোণে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়ে উঠবে, তা এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মনোযোগের কেন্দ্রে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে ইরানের বহুমুখী কৌশলকে বিবেচনা করলে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, ইরানের এই পাঁচ ধাপের পরিকল্পনা কেবল সামরিক হুমকি নয়, বরং অর্থনৈতিক ও সাইবার ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। যদি কোনো ধাপ কার্যকর হয়, তা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থান ও জ্বালানি বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।
অবশিষ্ট প্রশ্ন রয়ে গেছে, ইরান কীভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। ওমানের বৈঠকের ফলাফল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক পদক্ষেপই ভবিষ্যতে এই উত্তেজনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।



