26 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যমাসিক রক্তে সার্ভিকাল ক্যান্সার শনাক্তকরণে নতুন পদ্ধতি, কম আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে

মাসিক রক্তে সার্ভিকাল ক্যান্সার শনাক্তকরণে নতুন পদ্ধতি, কম আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে

চীনা গবেষকরা সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, মাসিক রক্তে নির্দিষ্ট অণু বিশ্লেষণ করে সার্ভিকাল ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব এবং এটি বর্তমান এনএইচএস স্ক্রিনিংয়ের তুলনায় কম আক্রমণাত্মক হতে পারে। এই পদ্ধতি গৃহে সহজে সম্পন্ন করা যায়, ফলে নারীদের জন্য সময় ও গোপনীয়তার দিক থেকে সুবিধা বাড়ে।

ইংল্যান্ডে এনএইচএস যে সার্ভিকাল স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম চালিয়ে আসছে, তাতে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সের সকল নারীর প্রতি পাঁচ বছরে একবার পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। তবে বর্তমানে প্রায় এক তৃতীয়াংশ নারী এই পরীক্ষায় অংশ নেন না, যার ফলে পাঁচ মিলিয়ন নারীর স্ক্রিনিং আপডেটেড নয়।

অনুপস্থিতির প্রধান কারণগুলোতে পরীক্ষার সময় ব্যথা, অস্বস্তি এবং স্পেকুলাম প্রবেশের ভয় অন্তর্ভুক্ত। অতিরিক্তভাবে, পূর্বের খারাপ অভিজ্ঞতা, মেনোপজের পরিবর্তন, শারীরিক বা শিক্ষাগত প্রতিবন্ধকতা, সাংস্কৃতিক বাধা এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া নারীরাও এই সেবায় অংশ নিতে দ্বিধা করে।

বয়স কম, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা, জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী এবং এলজিবিটি+ সম্প্রদায়ের নারীরা বিশেষভাবে স্ক্রিনিং বাদ দেওয়ার প্রবণতা দেখায়। এই গোষ্ঠীগুলোর জন্য বিকল্প পদ্ধতি তৈরি করা হলে অংশগ্রহণের হার বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন পদ্ধতিতে রক্ত সংগ্রহের জন্য সাধারণ স্যানিটারি প্যাডের সাথে সংযুক্ত একটি তুলোর স্ট্রিপ ব্যবহার করা হয়। মাসিকের সময় এই স্ট্রিপে রক্ত শোষিত হয়ে সংগ্রহ করা হয় এবং পরে ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষণ করা যায়। গৃহে নিজে-নিজে এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হওয়ায় নারীর গোপনীয়তা রক্ষা পায়।

গবেষক দল দাবি করেছে যে, এই রক্ত-ভিত্তিক টেস্টের নির্ভুলতা প্রচলিত সেল সংগ্রহের তুলনায় সমান বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। যদিও ফলাফল প্রাথমিক পর্যায়ের, তবে প্রমাণিত হয়েছে যে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এইচপিভি (HPV) ভাইরাসের চিহ্ন রক্তে সনাক্ত করা যায়।

কম আক্রমণাত্মক হওয়ায় এই পদ্ধতি স্ক্রিনিংয়ে অনাগ্রহী নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। গৃহে সহজে সম্পন্ন হওয়ায় সময়ের সীমাবদ্ধতা কমে এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ভিড় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সার্ভিকাল ক্যান্সার সংক্রান্ত দাতব্য সংস্থাগুলো এই নতুন পদ্ধতিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং উল্লেখ করেছে যে, এটি রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। তবে তারা সতর্ক করেছে যে, গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে এবং বৃহত্তর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।

এনএইচএস ইতিমধ্যে কিছু ইংল্যান্ডের অঞ্চলে গৃহে ব্যবহারযোগ্য স্ব-নমুনা কিট পাঠাচ্ছে, যেখানে নারীরা ভ্যাজাইনাল সুয়াব ব্যবহার করে নমুনা সংগ্রহ করতে পারেন। এই কিটগুলো আগামী বছর ব্যাপকভাবে বিতরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে স্ক্রিনিং মিস করা নারীরা সহজে অংশ নিতে পারেন।

স্ব-নমুনা কিটেও এখনও ভ্যাজাইনাল সুয়াব প্রবেশের প্রয়োজন হয়, যা কিছু নারীর জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। মাসিক রক্তে টেস্টের ক্ষেত্রে স্পেকুলাম বা সুয়াব ব্যবহার না করেই নমুনা সংগ্রহ করা যায়, ফলে শারীরিক অস্বস্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

ডাক্তাররা স্ক্রিনিংকে আরও আরামদায়ক করার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন, যেমন গরম স্নান, শিথিলকরণ কৌশল এবং স্ব-নমুনা পদ্ধতির ব্যবহার। এসব ব্যবস্থা নারীর ভয় কমিয়ে অংশগ্রহণের হার বাড়াতে সহায়তা করে।

গবেষকরা জোর দিয়ে বলছেন যে, মাসিক রক্ত টেস্টকে ব্যাপকভাবে গ্রহণের আগে বৃহৎ স্কেলের ক্লিনিক্যাল গবেষণার মাধ্যমে তার নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যদি এই পদ্ধতি প্রমাণিত হয়, তবে এটি এনএইচএস স্ক্রিনিং প্রোগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পূরক হতে পারে।

এখন পর্যন্ত, নারীদের জন্য সর্বোত্তম উপায় হল এনএইচএসের বর্তমান স্ক্রিনিং সময়সূচি মেনে চলা এবং নিয়মিত পাঁচ বছরের মধ্যে পরীক্ষা করানো। নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে, চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প নির্বাচন করা উচিত।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments