প্রধান উপদেষ্টার উপ‑প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বুধবার রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করে জানান, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সরকারকে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের হাতে হস্তান্তর করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার প্রচারণা বন্ধ করা।
আজাদ মজুমদার পোস্টে উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পরও অন্তর্বর্তী সরকার অতিরিক্ত ১৮০ কার্যদিবস পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে এমন দাবি অবৈধ এবং অসৎ উদ্দেশ্যযুক্ত। তিনি বলেন, এই ধরনের তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে কিছু গোষ্ঠী নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি সন্দেহ তৈরি করার চেষ্টা করছিল।
ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারী দায়িত্ব নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যাতে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্রুত নীতি নির্ধারণে অংশ নিতে পারেন। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সরকারী সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
বিকল্প দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক পূর্বে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন। তারা উল্লেখ করছিলেন, যদি সরকার দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষমতায় থাকে, তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। আজাদ মজুমদারের এই মন্তব্য সেই উদ্বেগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দেয়।
নির্বাচনের পর দ্রুত হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, দ্রুত হস্তান্তর হলে নীতি পরিবর্তন ও নতুন আইন প্রণয়নে সময়সীমা কমে যাবে, ফলে জনগণের চাহিদা দ্রুত সাড়া পাওয়া সম্ভব হবে।
আজাদ মজুমদার পোস্টে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অতিরিক্ত ক্ষমতা নিয়ে যে প্রচারণা চলছে, তা গুজব ও ভুল তথ্যের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তিনি এ ধরনের প্রচারণা বন্ধ করার জন্য সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সতর্ক করেন।
বৈধভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হলে, সরকারী বিভাগগুলোকে নতুন নীতি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। এতে বাজেট বরাদ্দ, উন্নয়ন প্রকল্প এবং জনসেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় ত্বরান্বিত পরিবর্তন আশা করা যায়।
অধিকন্তু, আজাদ মজুমদার উল্লেখ করেন, দ্রুত হস্তান্তরের মাধ্যমে সরকারী কর্মচারীদের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, তবে নতুন প্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সরকার ও সংসদের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
প্রতিবাদী গোষ্ঠীও এই ঘোষণার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তারা দাবি করে, নির্বাচনের পর দায়িত্ব হস্তান্তর না হলে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আজাদ মজুমদারের মন্তব্যকে তারা সরকারের স্বচ্ছতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
অন্যদিকে, কিছু রাজনৈতিক দল এখনও সরকারী হস্তান্তরের নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, হস্তান্তরের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সময়মতো সম্পন্ন হওয়া দরকার, যাতে কোনো ধরণের ক্ষমতার শূন্যতা না থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ সরকারের পূর্বে ঘোষিত নির্বাচনের তারিখ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি ইতিমধ্যে চালু রয়েছে। নির্বাচনের পর দ্রুত হস্তান্তরের পরিকল্পনা এই প্রস্তুতিগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
সারসংক্ষেপে, আজাদ মজুমদার ফেসবুক পোস্টে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে হস্তান্তর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের অতিরিক্ত ক্ষমতা বাড়ানোর প্রচারণাকে অসৎ বলে সমালোচনা করেন এবং দ্রুত হস্তান্তরের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। এই ঘোষণার ফলে রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং দ্রুত নীতি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা বাড়ছে।



