সতর্কতা: নিম্নলিখিত প্রতিবেদনে হিংসাত্মক ও দুঃখজনক বিবরণ রয়েছে।
জুন বুনিয়ান, ৩৭ বছর বয়সী স্কটল্যান্ডের আর্রান দ্বীপে বেড়ে ওঠা এক তরুণ আইন স্নাতক, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসতি স্থাপন করে ডিফেন্স অ্যাটর্নি হওয়ার স্বপ্ন অনুসরণ করেন। সেখানে তিনি ২৫ বছর বয়সী লস এঞ্জেলেসের জোনাথন রেন্টেরিয়ার সঙ্গে অনলাইন মার্শাল আর্টের মাধ্যমে পরিচিত হন, বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং জুলাই ২০২৫-এ রেজিনা নামের একটি মেয়ে জন্ম দেন।
জুনের মা, জিল বুনিয়ান, আর্রানে বসবাস করতেন এবং নিয়মিত কন্যার সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে জুন তার সন্তানকে নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত ছিলেন। তবে রেজিনার জন্মের দুই মাসেরও কম সময়ে, লস এঞ্জেলেসের তার ফ্ল্যাটে জুনের দেহ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।
স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল তদন্ত করে এবং জোনাথন রেন্টেরিয়াকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তের আইনজীবী দাবি করেন যে অপরাধের সময় রেন্টেরিয়া মানসিক অস্থিরতা বা সাইকোসিসের শিকার হতে পারেন। রেন্টেরিয়া এখনো দোষ স্বীকার করেননি এবং ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত।
জিল বুনিয়ান, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে না থাকলেও মামলার সব দিক সম্পর্কে জানেন, আদালতে দুই বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “দুই বছর কাঁদতে পারব না, দু’বছর অগ্রসর হতে পারব না, দু’বছর শুধু অপেক্ষা করতে হবে।” তার মতে এই সময়টি যেন নরকের মতো।
মা-দূতের দুঃখ আরও বাড়িয়ে তুলেছে যে, জুনের মৃত্যুর পর থেকে রেজিনার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। রেজিনার ব্যক্তিগত সামগ্রী, যেমন জামাকাপড় ও খেলনা, এখনো অদৃশ্য। জিলের মতে, রেজিনার সম্পত্তি রেন্টেরিয়ার পিতামাতার তত্ত্বাবধানে রয়েছে, তবে এই তথ্যের কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
জিল রেজিনার হেফাজত পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি রেন্টেরিয়ার বিরুদ্ধে সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা দায়ের করার পাশাপাশি, রেজিনার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্বশীলতা দাবি করছেন। এই আইনি ব্যয়ের জন্য পরিবার একটি ক্রাউডফান্ডার চালু করেছে, যাতে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করা যায়।
মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, রেন্টেরিয়ার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং তার ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। আদালত অনুযায়ী, বিচারের তারিখ নির্ধারিত হওয়ার আগে প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাবে। রেন্টেরিয়া যদি দোষী প্রমাণিত হন, তবে তাকে গৃহহত্যা ও দেহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত কঠোর শাস্তি দেওয়া হতে পারে।
জিল বুনিয়ান রেজিনাকে স্কটল্যান্ডে নিয়ে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে তার নাতি-নাতনি তার মাতার বাড়িতে নিরাপদ ও স্নেহময় পরিবেশে বড় হতে পারবে। তবে রেন্টেরিয়ার পিতামাতার তত্ত্বাবধানে রেজিনার বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
এই মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক হেফাজত সংক্রান্ত জটিলতা উভয়ই প্রাসঙ্গিক। রেন্টেরিয়া যদি দোষী প্রমাণিত হন, তবে হেফাজত সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত রেজিনার সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে, জিল বুনিয়ানের আইনি দল রেজিনার সম্পত্তি ও ব্যক্তিগত সামগ্রীর পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে চায়।
মামলার অগ্রগতি ও আদালতের চূড়ান্ত রায়ের জন্য দু’বছরের অপেক্ষা হতে পারে, যা জিলের জন্য মানসিক ও আর্থিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি এই সময়ে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ওষুধের সাহায্য নিচ্ছেন এবং পরিবারের সমর্থন নিয়ে এই কঠিন সময় পার করার চেষ্টা করছেন।
মামলার বর্তমান অবস্থা অনুসারে, রেন্টেরিয়া এখনও ন্যায়বিচারের অধীনে আছেন এবং তার পক্ষে সাইকোসিসের রক্ষা যুক্তি উপস্থাপিত হতে পারে। আদালত প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রায় দেবার আগে সকল পক্ষের যুক্তি শোনার সুযোগ পাবে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল রেজিনার ভবিষ্যৎ ও জুনের পরিবারের শোকের সমাপ্তি নির্ধারণ করবে।



