27 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজাতীয় নাগরিক দলের সামান্থা শারমিন সরকারকে অস্থিরতা সৃষ্টির দায়ে অভিযুক্ত

জাতীয় নাগরিক দলের সামান্থা শারমিন সরকারকে অস্থিরতা সৃষ্টির দায়ে অভিযুক্ত

জাতীয় নাগরিক দলের সিনিয়র জয়েন্ট কনভেনার সামান্থা শারমিন আজ ঢাকা বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এক রাউন্ডটেবিল আলোচনায় interim সরকারকে মাঠে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে কাজ করার অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই কৌশল রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বক্তব্যের পটভূমি হল ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে আইন ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ।

আলোচনার শিরোনাম ছিল “National Election 2026: The Continuity of Violence and the Sense of Responsibility for Harmony” এবং এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভাটি সন্ধ্যায় শুরু হয়ে দুই ঘন্টার বেশি সময় ধরে চলেছিল। বিষয়বস্তু মূলত দেশের নিরাপত্তা অবস্থা ও নির্বাচনী পরিবেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল।

সামান্থা শারমিন হোম অ্যাডভাইজার লে. জেনারেল (রিটায়ার্ড) জাহাঙ্গীর আলামকে শুধুই মুখোশ এবং মুখপাত্র বলে সমালোচনা করেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, আলাম কতটুকু বাস্তব ক্ষমতা রাখেন এবং কি তিনি সত্যিই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। শারমিনের মতে, আলাম প্রায়শই অন্যের নির্দেশে কথা বলেন এবং তার সিদ্ধান্তের স্বায়ত্তশাসন সীমিত।

“জাহাঙ্গীর আলাম কেবল মুখ, মুখপাত্রই। তার মন্ত্রণালয়ের ওপর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কতটা, তা স্পষ্ট নয়,” শারমিন রাউন্ডটেবিলের সময় বলেন। তিনি আরও যোগ করেন, আলামকে যে কোনো নির্দেশে মুখে রাখার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে। এই মন্তব্যের পর উপস্থিতরা নীরবতা বজায় রাখে।

একদিন আগে হোম অ্যাডভাইজার জাহাঙ্গীর আলাম জনসাধারণের উদ্বেগকে উপেক্ষা করে বলেছিলেন, দলীয় হিংসা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই এবং পুলিশ ভয় ছাড়াই কাজ করছে। শারমিন এই পূর্ববর্তী মন্তব্যকে অস্বীকার করে বলেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি যুক্তি দেন, সরকার বাস্তব সমস্যাকে অস্বীকার করে না, বরং তা ব্যবহার করে।

শারমিনের মতে, সরকারের অস্বীকারের পরেও অস্থিরতা বাড়ছে এবং তা কেবল অস্বীকার নয়, বরং কিছু অংশের ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, “এই সরকারের বড় একটি অংশই এই ধরনের অস্থিরতা চায়।” তার মতে, এই কৌশল নির্বাচনী সুবিধা অর্জনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

অস্থিরতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের কথা শারমিন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন এবং সরকারী নিশ্চিতিকরণকে “অন্তর্শার শূন্যতা” বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সরকারী ঘোষণাগুলি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মেলেনা। এই পার্থক্যই জনসাধারণের মধ্যে অবিশ্বাসের মূল কারণ।

ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের পরেও শারমিন বলেন, “মাটিতে কোনো আত্মবিশ্বাসের চিহ্ন নেই।” তিনি যুক্তি দেন, সরকারী উচ্চস্বরে বলা আশাবাদী কথা বাস্তবের সঙ্গে মিলে না। শারমিনের মতে, এই ধরনের বক্তব্য কেবল মুখের কথাই।

পুলিশ সংস্কার নিয়ে শারমিনের সমালোচনা তীব্র। তিনি বলেন, ইউনিফর্ম পরিবর্তন মানেই সংস্কার নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাঠামোগত ও আচরণগত পরিবর্তন ছাড়া জনসাধারণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।

শারমিনের মতে, বাস্তবিক সংস্কার মানে কেবল পোশাক নয়, বরং প্রশিক্ষণ, দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে পুলিশে জনসাধারণের আস্থা হ্রাস পেয়েছে। তাই গভীর পরিবর্তন প্রয়োজন।

এই আলোচনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, শারমিনের মন্তব্য সরকারে চাপ বাড়াতে পারে এবং আইন ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নীতি পুনর্বিবেচনার দিকে ধাবিত করতে পারে। তবে সরকার কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা এখনও অনিশ্চিত। ভবিষ্যতে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর এই বিতর্কের প্রভাব বাড়তে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments