চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গাছ কাটা ও কাঠ চোরাচালান সংক্রান্ত সন্দেহজনক কার্যক্রমের তদন্তে নিরাপত্তা বিভাগ ৭৬টি টিক ও গামারী কাঠের লগ জব্দ করেছে। ঘটনাটি গত রাত্রি ৯:৩০ টার দিকে নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক মো. শাহেদুল ইসলাম ও গার্ডদের দল ক্যাম্পাসের প্রবাহিত জলের পথে গড়ে তোলা মাটি-ড্যাম ভেঙে তদন্তে অগ্রসর হয়।
বিষয়টি প্রথমে একটি শিক্ষার্থী ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে জানায়। পোস্টে উল্লেখ করা হয় যে, জীববিজ্ঞান ফ্যাকাল্টির পেছনে অবস্থিত একটি ছোটো ধারা পরিবর্তন করে কাঠের লগকে নিচের দিকে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিভাগ দ্রুত তথ্য যাচাই করে, সংশ্লিষ্ট স্থানে গিয়ে মাটি-ড্যামটি ভেঙে, ধারা পুনরুদ্ধার করে এবং লগের সন্ধান পায়।
সেই ধারা অনুসরণ করে দলটি বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ফ্যাকাল্টির পেছনে অবস্থিত বাঁশের বাগানে পৌঁছায়, যেখানে কাটা গাছের লগগুলো একসাথে স্তূপে জমা ছিল। লগগুলো টিক ও গামারী কাঠের, যা উভয়ই উচ্চমূল্যের কাঠের প্রকার।
গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়নি। নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক শাহেদুল ইসলাম জানান, লগগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা বনভূমি ও ধারা থেকে কাটা হয়েছে এবং কাঠের চোরাচালান রোধে প্রোক্টরের নির্দেশে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, লগগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হবে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান।
প্রশাসনিক দিক থেকে, লগগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপদ গুদামখানায় সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অননুমোদিত ব্যবহার না হয়। বর্তমানে তদন্তের জন্য কোনো পুলিশ জেনারেল ডায়েরি দাখিল করা হয়নি, ফলে আইনগত প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি।
সহায়ক প্রোক্টর মো. নুরুল হামিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তিনি এই মুহূর্তে মন্তব্য করতে পারেননি। তবে তিনি বিষয়টি জানার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
এই ধরনের কাঠ চোরাচালানের প্রচেষ্টা পূর্বে গত বছরের জুন মাসেও রিপোর্ট করা হয়েছিল। সেই সময়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগ ক্যাম্পাসের ধারা থেকে কাঠের লগ জব্দ করেছিল, তবে কোনো সন্দেহভাজন ধরা পড়েনি। উভয় ঘটনার মধ্যে সাদৃশ্য হল কাঠের লগকে ধারা ব্যবহার করে নিচের দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা, যা নিরাপত্তা বিভাগ দ্রুত সনাক্ত করে থামাতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত বনভূমি ও ধারা উভয়ই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি, তাই সেসব সম্পদ থেকে গাছ কাটা ও কাঠ চোরাচালান অবৈধ। নিরাপত্তা বিভাগ এই ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে ক্যাম্পাসের সব প্রবাহিত জলের পথ পর্যবেক্ষণ বাড়াবে।
অধিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা জানিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে লগের মালিকানা, কাটা গাছের উৎস এবং সম্ভাব্য বিক্রয় চ্যানেল নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালু রয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদের সুরক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও প্রশাসন উভয়ই একত্রে কাজ করে, ভবিষ্যতে অনধিকারী কাঠ চোরাচালান রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ৭৬টি কাঠের লগ জব্দ করেছে এবং বিষয়টি তদন্তের অধীনে রয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে ক্যাম্পাসের সব প্রবাহিত জলের পথের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বনভূমির সুরক্ষায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



