ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের ইজ্জতপুর গ্রামে এবি পার্টির প্রার্থী মুজিবুর রহমান মঞ্জুরের নির্বাচনী কার্যালয় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। স্থানীয় দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে অজানা ব্যক্তিরা অফিসের চেয়ার ও টেবিল ভেঙে তছনছ করে ফেলেছে।
সেই দিন সকালেই ইজ্জতপুরে ১১ দলীয় জোটের ঈগল প্রতীকের প্রার্থী মঞ্জুরের অফিস উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন এবং অফিসের কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দেন।
উদ্বোধনের পর কর্মীরা প্রত্যেকের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সময়, রাতের কোনো সময়ে অজানা গোষ্ঠী অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র নষ্ট করে। চেয়ার, টেবিল এবং অন্যান্য সামগ্রী ভেঙে ফেলা হয়, ফলে অফিসের ব্যবহারযোগ্যতা হারিয়ে যায়।
সকালবেলা সমর্থকরা অফিসে পৌঁছে নষ্ট হওয়া অবস্থা দেখে রাগ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন, অফিসের ভাঙচুরের ফলে নির্বাচনী কাজের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় জামাত কর্মী আব্দুল হাকিম পাটোয়ারী জানান, উদ্বোধনের পর সবাই বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন, আর সকালে অফিসে প্রবেশ করে দেখেন যে ভাঙচুরের কাজ করা হয়েছে। তিনি এটিকে নির্বাচন বানচালকারীদের ষড়যন্ত্রের অংশ বলে উল্লেখ করে, দ্রুত তদন্তের দাবি তোলেন।
ঈগল প্রতীকের প্রার্থী কর্মী আতাউল করিম সজীবও বলেন, মঞ্জুরের বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গোষ্ঠী বিভিন্ন স্থানে তাদের কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে। তিনি ভাঙচুরকে “চরম অন্যায়” বলে ডেকেছেন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফেনী জেলা এবি পার্টির সদস্য সচিব ফজলুল হক জানান, অফিসে ঘটিত ভাঙচুরের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী কাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং স্থানীয় জনগণকে সুরক্ষিত রাখা হবে।
ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তা জানান, ইজ্জতপুরে ঘটিত ভাঙচুরের খবর পাওয়া মাত্রই বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ভাঙচুরের ঘটনা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ভোটারদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ প্রদানই এখন সময়ের চাহিদা। এই ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



