রাশিয়ার কিউবা দূতাবাসের প্রধান ভিক্টর করোনেল্লি রায় দিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো কিউবাকে তেল সরবরাহ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই প্রবণতা বজায় থাকবে। এই মন্তব্য রয়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশিত রাশিয়া বার্তা সংস্থা রিয়ার সাক্ষাৎকারে জানানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “তেল সরবরাহের এই চর্চা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা ধারণা করছি,” যা রাশিয়ার কিউবায় জ্বালানি নীতি সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিবৃতি কিউবায় তেল সরবরাহের বিষয়কে নতুন উত্তেজনা দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সূচনা করেছে এবং কয়েক দিন আগে কিউবাকে “অস্বাভাবিক ও ব্যতিক্রমী হুমকি” হিসেবে চিহ্নিত করে দেশের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় তেল পৌঁছানোর সব সম্ভাব্য রুট বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে কিউবায় তেল সরবরাহের সরাসরি রুটগুলোকে বাধা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত, যা পূর্বে কিউবায় তেল প্রবাহের প্রধান পথ হিসেবে কাজ করছিল। তদুপরি, ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপহরণের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্যারাকাস থেকে কিউবায় তেল সরবরাহও থামিয়ে দিয়েছে। এই দুইটি ব্যবস্থা একসাথে কিউবার তেল সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধাক্কা সৃষ্টি করেছে।
কিউবায় তেল সংকটের ফলে হাভানা ও অন্যান্য শহরে খাবার ও গণপরিবহনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তেল ঘাটতির ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে লোডশেডিং তীব্রতর হয়েছে, যা নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে গরমের মাসে বিদ্যুৎ ঘাটতি বাড়িয়ে দিচ্ছে, ফলে শিল্প ও সেবা খাতেও চাপ বাড়ছে।
আঞ্চলিক পর্যায়ে রাশিয়ার কিউবায় তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা রাশিয়ার কিউবায় প্রভাব বজায় রাখার কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকি এবং তেল রুট বন্ধ করা কিউবার অর্থনীতিতে তীব্র চাপ সৃষ্টি করবে, যা কিউবার সরকারকে বিকল্প জ্বালানি উৎস বা নতুন বাণিজ্যিক চ্যানেল খুঁজতে বাধ্য করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, রাশিয়া এবং ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলো কিউবার তেল চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এই দেশগুলো সরবরাহ চালিয়ে যাবে। তবে, শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রাশিয়ার তেল রপ্তানির খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা কিউবার জন্য তেলের চূড়ান্ত মূল্য বাড়িয়ে তুলতে পারে।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিউবায় তেল সরবরাহ সংক্রান্ত নীতি কীভাবে বিকশিত হবে তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। রাশিয়া যদি শুল্কের প্রভাব কমাতে বিকল্প রুট বা মূল্য সমন্বয় করে, তবে কিউবার তেল ঘাটতি কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ বা নতুন নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার সরবরাহকে কঠিন করে তুলতে পারে, যা কিউবার অর্থনৈতিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
এই পরিস্থিতি কিউবার বিদ্যুৎ ঘাটতি, খাবারের দাম এবং পরিবহন খরচের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে, এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে। রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক পদক্ষেপের পারস্পরিক প্রভাব কিউবার ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়াবে।



