27 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিশাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের সময় দুই মাস বাড়িয়ে ৫ এপ্রিল...

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের সময় দুই মাস বাড়িয়ে ৫ এপ্রিল নির্ধারিত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের হত্যাযজ্ঞের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের শেষ তারিখ দুই মাস বাড়িয়ে ৫ এপ্রিল নির্ধারণ করেছে। মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা অভিযুক্ত।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বে দুই সদস্যের প্যানেল এই আদেশ জারি করে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত সময়ের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং নতুন সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে গাজী এমএইচ তামিম দুই মাসের সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, মামলার জটিলতা ও বিশাল পরিমাণের প্রমাণ সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। ট্রাইব্যুনাল তার আবেদন মঞ্জুর করে নতুন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করে।

একই দিনে, ট্রাইব্যুনালে পাঁচজন গ্রেফতারকৃত আসামি উপস্থিত হয়। তারা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম এবং একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

শাপলা চত্বরে ৫ মে ২০১৩ তারিখে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ আজিজুল হক, জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্তদের তালিকায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক এমপি হাজী সেলিম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, কমিটির সদস্য অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার, একাত্তর টিভির সাবেক সিইও মোজাম্মেল হক বাবু, সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ জোবায়ের, এবিনিউজ২৪ ডটকমের সম্পাদক সুভাস সিংহ রায় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাইমুল ইসলাম।

মামলায় উল্লেখযোগ্য যে, অভিযুক্তদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংস্থার উচ্চপদস্থ ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী ধাপগুলো নির্ধারিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে তা অনুসরণ করতে হবে।

প্রসিকিউশন দল উল্লেখ করেছে যে, অতিরিক্ত সময়ের মাধ্যমে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী সাক্ষাৎকার এবং বিশ্লেষণাত্মক কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তারা আরও জানিয়েছে যে, প্রতিবেদন দাখিলের পর মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে।

ট্রাইব্যুনালের এই পদক্ষেপের ফলে শাপলা চত্বরে ঘটিত হত্যাযজ্ঞের ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে, তবে একই সঙ্গে যথাযথ তদন্তের সুযোগও নিশ্চিত হবে। ভবিষ্যতে আদালতের রায় দেশের রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা এবং মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়াবে।

এই মামলায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য এখন সময়সীমা মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা অপরিহার্য। ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে যে, কোনো অনিয়ম বা দেরি ঘটলে তা কঠোরভাবে শাসন করা হবে।

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া দেশের আন্তর্জাতিক চিত্র ও আইনি স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরবর্তী পর্যায়ে কীভাবে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে এবং কী রকম রায় দেওয়া হবে, তা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments