প্রাক্তন ইংল্যান্ড ক্যাপ্টেন ও ক্রিকেট বিশ্লেষক নাসার হুসেইন, স্কাই স্পোর্টসের একটি পডকাস্টে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ইন্ডিয়ায় না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানের সমর্থনকে প্রশংসা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ তার খেলোয়াড়ের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছে এবং পাকিস্তানও একই নীতিতে দাঁড়িয়ে আছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) ১০ম টি২০ বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশকে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে বদলায়, কারণ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দলকে ভারতীয় মাটিতে পাঠাতে অস্বীকার করেছে। টুর্নামেন্টটি ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শ্রীলঙ্কা ও ভারত দুই দেশে অনুষ্ঠিত হবে।
বিষয়টি তীব্রতা পায় যখন বাংলাদেশীয় পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ৩ জানুয়ারি কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষ থেকে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নির্দেশে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পরপরই বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া এবং পাকিস্তানকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপরীতে নির্ধারিত গ্রুপ ম্যাচ থেকে বিরত থাকতে হয়, যা বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে করা হয়।
হুসেইন বলেন, পাকিস্তান এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত বা ICC-কে আর্থিকভাবে প্রভাবিত করার একমাত্র উপায় পেয়েছে, কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আয় টুর্নামেন্টের মোট আর্থিক প্রবাহের বড় অংশ গঠন করে। তিনি যুক্তি দেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বদলে ক্রিকেটের স্বাভাবিক রূপে ফিরে আসা দরকার।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “কেউ না কেউ একদিন বলবে, ‘রাজনীতি শেষ, ক্রিকেটে ফিরে আসি’।” হুসেইন এই মন্তব্যে ইঙ্গিত দেন যে বর্তমান পরিস্থিতি ক্রিকেটের স্বচ্ছন্দ পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করেছে এবং তা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
পাকিস্তানের এই বয়কটের প্রভাব সম্পর্কে হুসেইন বলেন, পাকিস্তান যদি আর্থিকভাবে বড় ম্যাচের ফলাফলকে প্রভাবিত না করে, তবে ICC-র সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইন্ডিয়া‑পাকিস্তান গেমের অর্থই একমাত্র হাতিয়ার, অন্যথায় কোনো দলই বড় প্রভাব ফেলতে পারবে না।”
হুসেইন একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, যদি ভবিষ্যতে ভারত নিজেই কোনো নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক কারণে নির্দিষ্ট দেশে না যেতে পারে, তবে ICC কি একই কঠোরতা বজায় রাখবে? তিনি ইঙ্গিত দেন, সিদ্ধান্তের পেছনে ন্যায়সঙ্গততা ও সমতা থাকা দরকার।
এই বিতর্কের মাঝেও টি২০ বিশ্বকাপের সূচি অগ্রসর। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের যৌথ হোস্টিংয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হবে, এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে নির্ধারিত ম্যাচটি এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। হুসেইন আশা প্রকাশ করেন, সকল দলই নিরাপত্তা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে অংশ নিতে পারবে।
সারসংক্ষেপে, নাসার হুসেইন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তার মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সীমা নির্ধারণে এবং সকল দেশের সমান আচরণে।



