জেফরি এপস্টেইনের কেলেঙ্কারি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারকে গভীর সংকটে ফেলেছে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই স্ক্যান্ডেল তার ক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ডাউনিং স্ট্রিটে একের পর এক সংকটের মুখে তার প্রধানমন্ত্রীত্ব প্রায় ঝুলে আছে।
যুক্তরাজ্যের জবাবদিহি ও তদন্ত সংস্থা এপস্টেইন নথি প্রকাশে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। নথিগুলো নরওয়ে ও পোল্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছে আন্তর্জাতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই বিস্তৃত প্রভাব দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এপস্টেইন ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে চলেছেন। তবে রিপাবলিকান পার্টি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব বিচার বিভাগের নজরদারি থেকে তাকে রক্ষা করছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। ফলে আমেরিকায় স্ক্যান্ডেলটি রাজনৈতিকভাবে কম চাপের মুখে রয়েছে।
জনরোষের তীব্রতা লক্ষ্য করে রাজা তৃতীয় চার্লস প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে তার রাজকীয় উপাধি থেকে বাদ দিয়েছেন। পাশাপাশি উইন্ডসর ক্যাসেলের একটি বাসভবন থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো জনমত শান্ত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা ২০১৯ সালে এপস্টেইনের কারাগার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে নিশ্চিত করেছে। তদন্তে এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই তার মৃত্যুকে রাজনৈতিক সুরক্ষার ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
সাবেক ট্রেজারি সেক্রেটারি ল্যারি সামার্স এপস্টেইনের সঙ্গে ইমেইল ফাঁসের পর জনসম্মুখে কার্যক্রম থেকে সরে গেছেন। ইমেইলে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ও ব্যক্তিগত পরামর্শের বিষয় উঠে এসেছে। তিনি এই ঘটনার জন্য গভীর লজ্জা প্রকাশ করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এপস্টেইন কেলেঙ্কারির দায়িত্ব থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা দায়ের হবে না এবং অপরাধের প্রমাণ নেই। তাই ট্রাম্পের জন্য এই বিষয়টি বড় আইনি ঝুঁকি তৈরি করেনি।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, স্টারমারের সরকার এপস্টেইন নথির বিস্তার ও জনমত চাপের কারণে দুর্বল হতে পারে। পার্লামেন্টে বিশ্বাসের হ্রাস এবং নির্বাচনী চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা বাড়ছে। সরকারকে স্বচ্ছতা ও স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের সরকার নথি প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে স্বচ্ছতা বাড়াবে, তদন্তের স্বাধীনতা বজায় রাখবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান পার্টি ও ট্রাম্পের রক্ষা কৌশল রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়ে যাবে।



