কক্সবাজার শহরের কলাতলী মোড়ের এক চা দোকানে সকাল সাড়ে নয়টায় নির্বাচনের পূর্বাভাস শোনা গেল। চারটি সংসদীয় আসন নির্ধারিত জেলার ভোটাররা ভোটের দিনকে ঘিরে আলোচনা শুরু করেছে, তবে আবেগের বদলে হিসাবকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই প্রবণতা স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিদ্যাকে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
সাগরের হালকা ঢেউ শোনার সঙ্গে সঙ্গে তাজা চায়ের গন্ধে মিশে উঠেছে ভোটের কথা। মাঝবয়সী এক বাসিন্দা, মো. মোস্তফা, সমিতি পাড়ার বাসিন্দা, চা গ্লাসে হাত রেখে মন্তব্য করেন যে ভোট হবে, তবে এইবারের গণনা আগের থেকে ভিন্ন। তিনি স্পষ্ট করে না বললেও, ভোটের ফলাফল নির্ধারণে ভোটাররা আরও বিচক্ষণভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন এই ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
মোস্তফা বলেন, “এবারের হিসাবটা একটু আলাদা” – অর্থাৎ ভোটাররা পার্টি চিহ্নের চেয়ে নিজের স্বার্থের ভিত্তিতে ভোট দেবে। তিনি কীভাবে এই পরিবর্তন ঘটবে তা বিস্তারিত না দিলেও, তার কথায় ভোটারদের মধ্যে গণনামূলক মনোভাবের সূচনা স্পষ্ট।
লেখক গত রোববার কক্সবাজারে পৌঁছে তিন দিন ধরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে দেখেছেন। প্রতিটি এলাকায় একই রকমের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে; ভোটাররা পার্টি নীতি বা নেতার ব্যক্তিত্বের চেয়ে বাস্তবিক সুবিধা ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এই পর্যবেক্ষণ থেকে বোঝা যায় যে, ভোটের আগে গণনা‑ভিত্তিক মনোভাব পুরো জেলার মধ্যে ছড়িয়ে আছে।
মৌলিকভাবে, যাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই নীরবভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা কোনো দল বা প্রতীককে অনুসরণ করার বদলে, আগামী পাঁচ বছরে তারা কী পাবেন তা নিয়ে বেশি চিন্তিত। এই প্রজন্মের ভোটাররা উন্নয়নমূলক প্রকল্প, কর্মসংস্থান এবং মৌলিক সেবার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
কক্সবাজারে চারটি সংসদীয় আসন রয়েছে, প্রতিটি আসন ভৌগোলিকভাবে ভিন্ন – পাহাড়, নদী, সাগর ও সীমান্তে ঘেরা। এই বৈচিত্র্যই প্রতিটি আসনের নির্বাচনী বাস্তবতাকে আলাদা করে তুলেছে। ফলে, প্রতিটি প্রার্থীকে স্থানীয় সমস্যার সমাধান ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে হবে।
এবারের নির্বাচনে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দুইজন রাজনীতিবিদ কক্সবাজারের বিভিন্ন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ চকরিয়া‑পেকুয়া (কক্সবাজার‑১) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর জামায়াত-এ-ইসলামির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ অন্য একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের উপস্থিতি কক্সবাজারকে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে।
দুইজন নেতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল স্থানীয় নয়, জাতীয় স্তরে ভোটের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে। উভয়ই তাদের নিজস্ব পার্টির ভিত্তিতে প্রচার চালাচ্ছেন, তবে ভোটারদের গণনামূলক মনোভাবকে লক্ষ্য করে তাদের নীতি ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হচ্ছে।
তরুণ ভোটারদের মধ্যে পার্টি চিহ্নের প্রতি আগ্রহ কমে গিয়ে বাস্তবিক ফলাফলের দিকে ঝুঁকেছে। তারা পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত উন্নয়ন কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। এই দৃষ্টিভঙ্গি নির্বাচনের ফলাফলে নতুন দিক যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, কক্সবাজারের ভোটাররা এখনো গণনা‑ভিত্তিক সিদ্ধান্তে অগ্রসর। পার্টি ও প্রার্থীরা এই প্রবণতাকে মাথায় রেখে ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ গড়ে তুলতে এবং বাস্তবিক উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে সচেষ্ট। শেষ পর্যন্ত, ভোটের ফলাফলকে গঠন করবে এই গণনামূলক মনোভাব, যা কক্সবাজারের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলকে নতুন রূপ দেবে।



