টোকিওতে বৃহস্পতিবার প্রথম স্থায়ী পোকেমন থিম পার্কের দরজা খুলে গেল। টোকিওর বৃহত্তম বিনোদন পার্ক ইয়োমুরি ল্যান্ডের মধ্যে অবস্থিত পোকেপার্ক কান্টো, ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। পার্কে পিকাচু ও অন্যান্য পোকেমন চরিত্রের মূর্তি সাজানো হয়েছে।
পার্কের মূল আকর্ষণ হল রঙিন রাইড এবং একটি বনের মতো এলাকা, যেখানে দর্শকরা ‘ক্যাচ ‘এম অল’ গেমের অনুকরণে পোকেমন ধরার চেষ্টা করতে পারেন। রাইডগুলো পরিবারিক মজা এবং পোকেমন থিমের ডিজাইনে সাজানো, যা ছোট থেকে বড় সব বয়সের দর্শকের মন জয় করে। এই বনের অংশে ১১০টি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হয়, যা কোনো সহায়তা ছাড়া করা সম্ভব।
পোকেমন ১৯৯৬ সালে নিন্টেন্ডোর গেম বয় কনসোলের জন্য ভিডিও গেম হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়। তখন থেকে এটি জাপানের অন্যতম সাংস্কৃতিক রপ্তানি হিসেবে গড়ে ওঠে।
গেমটির ধারণা জাপানের গ্রীষ্মের শৈশবের পোকা সংগ্রহের ঐতিহ্য থেকে নেওয়া হয়েছে; খেলোয়াড়রা ছোট ছোট ‘পকেট মনস্টার’ ধরতে ও প্রশিক্ষণ দিতে পারে। সংগ্রহ ও যুদ্ধের এই পদ্ধতি দ্রুতই তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
বছরের পর বছর ধরে পোকেমন অ্যানিমে, চলচ্চিত্র, ট্রেডিং কার্ড গেম এবং স্মার্টফোনের অগমেন্টেড রিয়েলিটি অ্যাপ ‘পোকেমন গো’ সহ নানা রূপে বিস্তৃত হয়েছে। আজ এটি বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।
পোকেপার্ক কান্টো দুটি প্রধান জোনে বিভক্ত। প্রথমটি প্রায় অর্ধ কিলোমিটার লম্বা, ঢালু আউটডোর জোন, যেখানে পোকেমন ফিগারিনের সারি সাজানো আছে। দ্বিতীয়টি গেমের শহরের নকশা অনুকরণে তৈরি শপিং ও রাইডের মডেল, যা দর্শকদের কেনাকাটা ও বিনোদনের সুযোগ দেয়। বহিরঙ্গন জোনে পোকেমন ফিগারিনের পাশাপাশি থিমযুক্ত ফটো স্পটও রয়েছে, যেখানে দর্শকরা স্মরণীয় ছবি তুলতে পারেন।
বনের এলাকায় প্রবেশের জন্য ১১০টি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হয়, এবং পার্কের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই কাজটি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে হবে। নিরাপত্তা ও অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে এই শর্তটি আরোপ করা হয়েছে।
উদ্বোধনের পর থেকে টিকিটের চাহিদা তীব্র হয়েছে; পরবর্তী দুই মাসের জন্য সব সিটই বিক্রি হয়ে গেছে। এটি জাপানে বিদেশি পর্যটকদের রেকর্ড সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যারা নতুন আকর্ষণে আগ্রহী। টিকিটের দাম বিভিন্ন প্যাকেজে নির্ধারিত, যার মধ্যে দ্রুত প্রবেশের সুবিধা ও বিশেষ রাইডের অ্যাক্সেস অন্তর্ভুক্ত।
২০২৫ সালে জাপানে মোট পর্যটক সংখ্যা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে, যদিও ডিসেম্বর মাসে চীনা পর্যটকদের সংখ্যা কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে হ্রাস পেয়েছে। তবুও সামগ্রিক প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নতুন থিম পার্কের সাফল্যের সূচক। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের থিম পার্কের উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে পর্যটন ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় ব্যবসার উন্নয়নে সহায়তা করবে।
ওসাকায় অবস্থিত ইউনিভার্সাল স্টুডিওস জাপানও সম্প্রতি পোকেমন-থিমযুক্ত আকর্ষণ তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, তবে বিস্তারিত এখনও প্রকাশিত হয়নি। এই পদক্ষেপটি পোকেমন ফ্র্যাঞ্চাইজের জাপানি থিম পার্কে বিস্তারকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে ধারণা।
পোকেমন থিম পার্কের উদ্বোধন জাপানের পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং ভক্তদের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রদান করেছে। ভবিষ্যতে আরও এমন প্রকল্পের সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে।



