27 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধলক্ষ্মীপুরে ভোটের অবৈধ সিল তৈরির মামলায় প্রিন্টিং প্রেসের মালিকের স্বীকারোক্তি

লক্ষ্মীপুরে ভোটের অবৈধ সিল তৈরির মামলায় প্রিন্টিং প্রেসের মালিকের স্বীকারোক্তি

লক্ষ্মীপুরে ভোটের অবৈধ ছয়টি সিল তৈরির অভিযোগে গ্রেফতার প্রিন্টিং প্রেসের মালিক সোহেল রানা (৪০) বুধবার বিকেলে ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ১৬৪ অনুসারে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। তিনি টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মারইয়াম প্রেসের স্বত্বাধিকারী, যা থেকে সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

স্বীকারোক্তিতে রানা উল্লেখ করেন যে সিল তৈরির আদেশ ৩০ জানুয়ারি তার হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জামায়াত-এ-ইসলামির নেতা সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফ (৩৪) থেকে প্রাপ্ত হয়। তিনি বলেন, আদেশ পাওয়ার পর সিলগুলো তৎক্ষণাৎ তৈরি করা হয়।

সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফ হলেন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ম. শাহজাহানের পুত্র এবং ওই ওয়ার্ডের জামায়াত-এ-ইসলামির সেক্রেটারি। তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন এবং দলের নেতৃত্বের কাছ থেকে বহিষ্কারের আদেশ পেয়েছেন।

জামায়াত-এ-ইসলামি কর্তৃপক্ষের মতে, শ্রী হোসেনের এই কাজ দলের চিত্র ক্ষুন্ন করেছে এবং তাই তাকে তৎক্ষণাৎ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় আমির এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া জানান, সিল তৈরিতে জড়িত ব্যক্তি দলের সদস্য নয় এবং তার দোকান থেকে জব্দ হওয়া সিলের সঙ্গে কোনো সংযোগ নেই।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহেদ পারভেজ স্বীকারোক্তি সম্পর্কে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রানা আদালতে যে তথ্য প্রদান করেছেন তা অনুসারে সিল তৈরির নির্দেশনা সরাসরি শ্রী হোসেনের কাছ থেকে এসেছে।

পুলিশের মতে, মঙ্গলবার বিকেলে পুরোনো আদালত রোডের মারইয়াম প্রেস থেকে সিল, কম্পিউটার ও মোবাইলসহ অন্যান্য প্রমাণ জব্দ করা হয় এবং রানা গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকালে রানা কোনো প্রতিরোধ না করে পুলিশকে সহযোগিতা করেন।

সেই একই দিনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, গ্রেফতারকৃত সোহেল রানা জামায়াত-এ-ইসলামির কর্মী হতে পারেন এবং তার পদবী সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিল তৈরির পেছনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জটিল পরিকল্পনা থাকতে পারে।

চৌধুরীর বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, সিলসহ জব্দ হওয়া কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আরও তথ্য বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তদন্তে নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে। তিনি ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে বলার পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানান।

সোহেল রানা যে স্বীকারোক্তি দেন তা ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ১৬৪ অনুসারে আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে। এই ধারার অধীনে স্বীকারোক্তি দেওয়া হলে তা আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়, তবে রানা এখনও অপরাধের শাস্তি নির্ধারণের জন্য বিচার প্রক্রিয়ার অধীন।

প্রাসঙ্গিক আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, রানা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আরও তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি জব্দ করা সিলের উৎপত্তি ও বিতরণ চেইন অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে।

এই মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে আদালতে রানা’র স্বীকারোক্তি ভিত্তিক অভিযোগ দায়ের করা হবে এবং আদালত তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য শুনানি নির্ধারণ করবে। মামলাটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ন বলে গণ্য করা হচ্ছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments