27 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঅন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে হাজার হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছাচারী গ্রেফতার, জামিন প্রত্যাখ্যান

অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে হাজার হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছাচারী গ্রেফতার, জামিন প্রত্যাখ্যান

ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তবর্তীকালীন সরকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মানবাধিকার সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতা দেখাচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) গতকাল প্রকাশিত ২০২৬ বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সরকার গৃহীত নীতি সত্ত্বেও হাজার হাজার নাগরিক স্বেচ্ছাচারীভাবে গ্রেফতার হয়েছে এবং বেশিরভাগের জামিন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকালে বিদ্যমান ভয় ও দমনমূলক পরিবেশের কিছু অংশ হ্রাস পেয়েছে বলে স্বীকার করা হলেও, HRW উল্লেখ করেছে যে অন্তবর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক গ্রেফতার চালিয়ে যাচ্ছে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ শাসন থেকে পতনের পর গোপন গ্রেফতার ও নিখোঁজের সংখ্যা কমে যাওয়া সত্ত্বেও, স্বেচ্ছাচারী গ্রেফতার বাড়তে থাকে। বিশেষ করে গত মে মাসে আওয়ামী লীগ (AL) কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এই প্রবণতা তীব্রতর হয়েছে। HRW অনুসারে, শত শত AL নেতা, কর্মী ও সমর্থককে হত্যার সন্দেহে জেলখানায় রাখা হয়েছে, যেখানে আদালত প্রায়ই জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।

প্রতিবেদনটি “অপারেশন ডেভিল হান্ট” নামে পরিচিত একটি জাতীয় অভিযান উল্লেখ করেছে, যার আওতায় কমপক্ষে ৮,৬০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ভিত্তিতে আটক হয়েছে।

জুলাই মাসে গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে নিষিদ্ধ AL সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজনের মৃত্যু ঘটায়। ঘটনাস্থলে শত শত মানুষকে গ্রেফতার করা হয় এবং ৮,৪০০ এরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যার মামলা দায়ের করা হয়, যদিও অধিকাংশের নাম প্রকাশ করা হয়নি। সরকার এই ব্যাপক গ্রেফতারকে অস্বীকার করে, দাবি করে যে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

HRW এছাড়াও রাজনৈতিক দল ও অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীর দ্বারা সংঘটিত হিংসা বাড়ার দিকে ইঙ্গিত করেছে। বিশেষ করে ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী, যারা নারীর অধিকার ও LGBTQ+ সম্প্রদায়ের প্রতি বৈরী, তারা গৃহহিংসা ও গৃহবধের মাধ্যমে জনসাধারণকে হুমকির মুখে ফেলছে। আইন ও সলিশ কেন্দ্রীয় (Ain o Salish Kendra) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত কমপক্ষে ১২৪ জনকে গোষ্ঠীভিত্তিক হিংসায় নিহত হয়েছে।

অধিকার সংস্থা অধিকার (Odhikar) এর তথ্য প্রকাশ করে যে, অন্তবর্তীকালীন সরকার দায়িত্বে আসার পর থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু ঘটেছে, যার মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

অন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার মুখে সরকার তার অবস্থান বজায় রাখছে। সরকার দাবি করে যে, স্বেচ্ছাচারী গ্রেফতার ও জামিন প্রত্যাখ্যানের কোনো প্রমাণ নেই এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তবে, মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখিত সংখ্যাগুলি রাজনৈতিক পরিবেশের অবনতি ও নাগরিক স্বাধীনতার হ্রাসের ইঙ্গিত বহন করে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, এই ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক দমন ভবিষ্যতে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, যদি আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য বিরোধী গোষ্ঠীর নেতারা দীর্ঘমেয়াদী কারাবাসে থাকেন, তবে রাজনৈতিক সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

অন্তবর্তীকালীন সরকারের নীতি ও কার্যক্রমের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়তে পারে, বিশেষ করে যখন মানবাধিকার সংস্থাগুলি ধারাবাহিকভাবে গ্রেফতার, জামিন প্রত্যাখ্যান এবং গোষ্ঠীভিত্তিক হিংসার সংখ্যা বাড়ার প্রতিবেদন করে। ভবিষ্যতে সরকার যদি এই সমস্যাগুলি সমাধানে পদক্ষেপ না নেয়, তবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরে নিন্দা ও শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে, নাগরিক সমাজের সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা আইনগত সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সমর্থন চেয়ে সরকারের নীতি পুনর্বিবেচনা এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments