বাংলাদেশ ব্যাংক আগামীকাল জাপানের সঙ্গে প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করবে, যা দেশের লিডি-স্ট্যাটাস ত্যাগের পর শুল্কমুক্ত বাজার প্রবেশ নিশ্চিত করবে। এই চুক্তি রপ্তানির শুল্কমুক্ত প্রবেশের পরিসর ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করবে এবং দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন স্তরে নিয়ে যাবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা স্ক বশির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিধি দল আজ ঢাকা থেকে টোকিও রওনা হবে, যেখানে তারা চুক্তি সম্পন্ন করবে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এই পরিকল্পনা সম্পর্কে পূর্বে জানিয়েছিলেন। দলটি টোকিওতে পৌঁছে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে।
১ জানুয়ারি ২২ তারিখে উপদেষ্টা পরিষদ এই ইপিএ অনুমোদন করেছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানিকারকদের তৎক্ষণাৎ শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেবে। রপ্তানির ৯৭ শতাংশ পণ্য, যার মধ্যে প্রস্তুত পোশাক (RMG) এবং প্রায় ৭,৩৭৯টি অন্যান্য পণ্য অন্তর্ভুক্ত, শুল্কমুক্ত হবে। এই সুবিধা রপ্তানির প্রতিযোগিতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর বিনিময়ে জাপানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাজারে ১,০৩৯টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এই পণ্যগুলোর মধ্যে ইলেকট্রনিক্স, যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য উচ্চ মানের পণ্য অন্তর্ভুক্ত, যা জাপানের রপ্তানি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চুক্তিতে গাড়ি ও মোটরযানকে শুল্কমুক্ত প্রবেশের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য সচিবের মতে, এই ব্যতিক্রমটি জাপানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের গাড়ি শিল্পে সরাসরি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
অধিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা স্থানীয় গাড়ি উৎপাদন শিল্পে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। জাপানি মূলধন ও প্রযুক্তি প্রবেশের মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিতে, জাপান ইতিমধ্যে এশিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য, যার বার্ষিক রপ্তানি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার, মূলত পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। এই পরিমাণ দেশীয় রপ্তানি কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গঠন করে।
অন্যদিকে, জাপান থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আমদানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় ১.৮ থেকে ২.৭ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক এবং রপ্তানি প্রচার ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী। এই আমদানি মূলত যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি পণ্যের ওপর কেন্দ্রীভূত।
ইপিএ রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, পাশাপাশি জাপানি মূলধনকে দেশের শিল্পাঞ্চলে আকৃষ্ট করবে। বিনিয়োগের নতুন প্রবাহ উৎপাদন খাতে আধুনিকীকরণ ত্বরান্বিত করবে এবং রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াবে।
শুল্ক ছাড়ের পাশাপাশি চুক্তিতে সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কাস্টমস প্রক্রিয়া এবং মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত বিধানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সমন্বিত কাঠামো দুই দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে সহজতর করবে এবং দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করবে।
বাণিজ্য সচিব উল্লেখ করেছেন, ইপিএর মাধ্যমে জাপান বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় এবং উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের পরিবর্তন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তন দেশের শিল্প উন্নয়ন ও রপ্তানি সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



