27 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধলক্ষ্মীপুরে ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা চুরি, অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দাখিল

লক্ষ্মীপুরে ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা চুরি, অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দাখিল

লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলা, কুশাখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ ছিলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ পায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।

বছরের শেষের দিকে নির্বাচনের জন্য বিদ্যালয়ের নিচতলায় তিনটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। ক্যামেরাগুলো ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে বসানো হয়েছিল এবং বিদ্যালয়টি নিয়মমতো বন্ধ রাখা হয়েছিল।

ক্যামেরা স্থাপনের পরের বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল চারটায় শিক্ষকবৃন্দকে স্কুলের ছুটি দেওয়া হয় এবং পরবর্তী তিন দিন বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকে। এই সময়ে কোনো কর্মী উপস্থিত ছিল না।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে শিক্ষকবৃন্দ যখন বিদ্যালয়ে ফিরে আসেন, তখন নিচতলায় থাকা তিনটি ক্যামেরার মধ্যে দুটি খুলে নেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। একই অবস্থা সরেজমিনে গিয়েও দেখা যায়, যা চুরির স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মদ মমতাজ বেগম ঘটনাটি তৎক্ষণাৎ প্রশাসনকে জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিলের নির্দেশ দেন। তিনি জানান, ক্যামেরা চুরি হওয়ায় ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জেলা জামায়াত-এ-ইসলামি সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মহসিন কবির মুরাদ ঘটনাটিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে, এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে বলে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি তদন্তের ত্বরান্বিত কার্যক্রম ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি করেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান হাসিবও চুরিটিকে নির্বাচনী কারচুপি ও কেন্দ্রভিত্তিক গোলযোগের সম্ভাব্য প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সিসি ক্যামেরার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং ইতিমধ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তিনি তদন্তের দ্রুত অগ্রগতি ও ফলাফল জানার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় পুলিশ বিভাগ চুরির বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং ক্যামেরা চুরি করা ব্যক্তিদের সনাক্ত করার জন্য ফোরেনসিক বিশ্লেষণ চালু করেছে। আইন অনুযায়ী চুরি করা সম্পদের পুনরুদ্ধার ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক, যা ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চুরি হওয়ায় এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অধিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে, ভোটকেন্দ্রের অন্যান্য ক্যামেরা সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।

এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, আইনগত প্রক্রিয়া চালু থাকবে এবং চুরির দায়ী ব্যক্তিদের বিচারে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments