ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবারের বক্তৃতায় এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্তের ব্যাপক নথি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি ছেড়ে ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলছেন যে দেশের মনোযোগ অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে সরানো দরকার।
মার্কিন সরকার গত দুই মাসে জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে যৌন পাচার মামলায় সংশ্লিষ্ট লক্ষ লক্ষ নথি প্রকাশ করেছে। এই নথিগুলোতে এপস্টেইন ও তার সহযোগীদের কার্যক্রম, সাক্ষাৎকার এবং আর্থিক লেনদেনের বিশদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ট্রাম্প এপস্টেইন মামলায় নিজে কোনো অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং বলেন, তার সম্পর্কে এখনো কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। তিনি অতীতে এপস্টেইনকে সমর্থনকারী কোনো কাজের উল্লেখ করেননি।
প্রকাশিত নথিতে ট্রাম্পের নাম ছয় হাজারেরও বেশি বার উল্লেখ পাওয়া গেছে। এপস্টেইন এবং তার সহকর্মীরা প্রায়ই ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন যোগাযোগের রেকর্ড রেখে গেছেন। এই তথ্যগুলো মিডিয়া সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে।
ট্রাম্প এবং এপস্টেইন উভয়ই নিউইয়র্ক সিটি ও ওয়েস্ট পাম বিচের বাসিন্দা ছিলেন এবং ১৯৯০ দশকের বেশিরভাগ সময়ে তাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ বলে জানা যায়। উভয়ের সামাজিক বৃত্তে একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মেলামেশা ছিল।
তবে দুই হাজারের শুরুর দিকে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে। গত ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি ইমেইলে ট্রাম্পের নাম বিশেষভাবে উল্লেখিত হয়েছে, যা বিষয়টির প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিয়েছে।
মার্কিন সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, কংগ্রেসে গত নভেম্বরে পাস হওয়া একটি আইনের অধীনে এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা বাধ্যতামূলকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই পর্যালোচনা সরকারী দায়িত্বের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়।
ব্ল্যাঞ্চের মতে, এই বিস্তৃত পর্যালোচনায় কোনো নতুন প্রমাণ বা অতিরিক্ত মামলা দায়েরের ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তাই বর্তমান সময়ে এপস্টেইন মামলায় নতুন কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।
এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যের সাদৃশ্য রয়েছে; উভয়ই বিষয়টি অতিরিক্ত মনোযোগের প্রয়োজন নেই বলে জোর দিচ্ছেন। সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে এপস্টেইন নথি পর্যালোচনা শেষ হওয়ায় বিষয়টি এখন আর আইনগতভাবে অগ্রসর নয়।
মার্কিন সরকারের কিছু বিশ্লেষক ও বিরোধী দল এখনও এপস্টেইন নথিতে উল্লেখিত ট্রাম্পের উল্লেখের গুরুত্ব তুলে ধরে অতিরিক্ত তদন্তের দাবি করছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের সূচনা হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অনুমান করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসন্ন নির্বাচনী চক্রে তার অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে। এপস্টেইন বিষয়টি পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের কমিটি এবং জনসাধারণের নজরদারি চালু থাকবে, তবে সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে নীতি নির্ধারণে অন্য অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে।



