গৃহীত তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১৩ মিনিটে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট প্রকাশ করে পাকিস্তানের ভারত‑ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “ধন্যবাদ পাকিস্তান,” এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ঘোষণার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বুধবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সামনে জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে টি‑টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তান ভারত‑ম্যাচ খেলবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্রীড়া ময়দানে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয় এবং এই সিদ্ধান্তটি গভীর চিন্তাভাবনা করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের পাশে সম্পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করে এটিকে “উপযুক্ত সিদ্ধান্ত” বলে উল্লেখ করেন।
২০২৬ আইসিসি টি‑টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা, যার যৌথ আয়োজক দেশ হল ভারত ও শ্রীলঙ্কা। মূল সূচিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচ নির্ধারিত ছিল। তবে পাকিস্তানের বয়কটের ঘোষণার ফলে এই ম্যাচটি বাতিল হয়ে যাবে এবং শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে না। এই পরিবর্তনটি টুর্নামেন্টের সময়সূচিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশের টিমকে এই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার পেছনে মূল কারণ হল, ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর ভারতের সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে বাংলাদেশ সরকার ১ জানুয়ারি সিদ্ধান্ত নেয়, ভারতীয় মাটিতে দল পাঠাবে না। এরপর বাংলাদেশ আইসিসি-কে অনুরোধ করে ম্যাচের ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করার জন্য, তবে আইসিসি এই অনুরোধকে “বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক” বলে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে এবং স্কটল্যান্ডকে নতুন অংশগ্রহণকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আসিফ নজরুলের পোস্টে তিনি পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে “খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত” বলে প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন, “আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত।” তিনি পাকিস্তানের এই সমর্থনকে ক্রীড়া জগতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা হিসেবে উল্লেখ করে দেশের ক্রীড়া নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।
পাকিস্তানের বয়কট এবং বাংলাদেশের টিমের বাদ পড়া উভয়ই একই মূল নীতির ওপর ভিত্তি করে—ক্রীড়া ময়দানে রাজনীতি না আনা। এই দুই দেশের সমন্বিত অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নীতি প্রয়োগে চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে টুর্নামেন্টের আয়োজনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। উভয় দেশই স্পষ্ট করে বলেছে, ক্রীড়া ময়দানে ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা উচিত।
বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কা ও ভারতীয় ময়দানে চলবে, এবং স্কটল্যান্ডের নতুন অংশগ্রহণের ফলে টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক গঠন কিছুটা পরিবর্তিত হবে। পাকিস্তানের বয়কটের ফলে ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচের অনুপস্থিতি শ্রীলঙ্কা ভেন্যুতে নির্ধারিত অন্যান্য ম্যাচগুলোর গুরুত্ব বাড়িয়ে দেবে। ক্রীড়া প্রেমিক ও বিশ্লেষকরা এখন বাকি শিডিউল এবং নতুন দলগুলোর পারফরম্যান্সের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।



