সিলেটের তেমুখী এলাকায় রাত ১২টার কাছাকাছি সিলেট‑সুনামগঞ্জ মহাসড়কে দুই গ্রাম, কামারগাঁও ও সাহেবেরগাঁও, বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে রাস্তাটি প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকে এবং অন্তত পনেরজন আহত হয়। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় শুরু হয়ে দেড়টার দিকে শেষ হয় বলে স্থানীয় পুলিশ জানায়।
প্রাথমিকভাবে কুমারগাঁও ও সাহেবেরগাঁও গ্রামের দুই কিশোরের মধ্যে ছোটখাটো তর্কের ফলে ঝগড়া শুরু হয়। তর্কটি দ্রুত বাড়ে এবং উভয় গ্রাম থেকে নাজিরেরগাঁও, ছড়ারগাঁও ও কালিরগাঁওয়ের লোকজন যুক্ত হয়ে সংঘর্ষের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
বৈধভাবে চলমান সিলেট‑সুনামগঞ্জ মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, কারণ উভয় দিকের লোকজন ইট, পাথর ও অন্যান্য বস্তু একে অপরের দিকে নিক্ষেপ করতে থাকে। রাস্তায় গাড়ি থেমে যায় এবং ট্রাফিক সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়।
পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেলসহ বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে আহতদের সংখ্যা বাড়ে। আহতদের মধ্যে কিছু গৃহস্থালির লোক ও গাড়ি চালক অন্তর্ভুক্ত, যাঁরা রাস্তায় আটকে যাওয়ার ফলে আঘাত পেয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
প্রথমে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন, তবে উভয় পক্ষের তীব্রতা বাড়ার ফলে তারা সফল হতে পারেননি। রাত একটার দিকে সেনাবাহিনীর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে দৌড়ে গিয়ে সংঘর্ষ থামায়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এই সংঘর্ষকে রাজনৈতিক কারণ বলে কেউ কেউ উল্লেখ করলেও, এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সংগঠন বা দল থেকে সরাসরি কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি যোগ করেন, দুই কিশোরের তর্কের মূল কারণ এখনও তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিরোধের ইতিহাস তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
পুলিশের মতে, সংঘর্ষের সময় উভয় গ্রাম থেকে অতিরিক্ত লোকজনের অংশগ্রহণ ঘটেছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে এবং রাস্তাটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। আহতদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ রোধে গ্রামভিত্তিক বিরোধের সমাধান ও শান্তিপূর্ণ আলোচনা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।



