দিল্লি হাইকোর্টে বিখ্যাত অভিনেতা ও উদ্যোক্তা ভিভেক ওবেরয় তার ব্যক্তিত্ব ও পাবলিসিটি অধিকার রক্ষার জন্য একটি সিভিল মামলায় আদালতে উপস্থিত হন। তিনি দাবি করেন যে তার নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর এবং স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো অনধিকারিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মামলাটি তার আইনজীবী সানা রায়েস খান ও প্রণয় চিতালে দুজনের মাধ্যমে দাখিল করা হয়েছে। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে অননুমোদিত ব্যবহার তার বাণিজ্যিক স্বার্থকে ক্ষতি করছে এবং তার সুনামকে হুমকির মুখে ফেলছে।
ওবেরয় জানান যে তার পরিচয়কে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অননুমোদিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার নাম, চেহারা এবং কণ্ঠস্বরকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে বিভিন্ন সেবা ও পণ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মামলায় কলেক্টর বাজার, জুমম্যান্ট্রা এবং ইন্ডিয়ানকন্টেন্টসহ কয়েকটি সংস্থাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও অজানা ব্যক্তিদেরকে জন ডো (John Doe) হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
আইনজীবীরা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন যাতে অভিযুক্তরা আর তার ব্যক্তিত্বের কোনো ব্যবহার করতে না পারে। এই চাওয়া নিষেধাজ্ঞা ব্যক্তিত্বের অধিকার লঙ্ঘন রোধে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা প্রদান করবে।
পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে অভিযুক্তরা ইনস্টাগ্রামসহ সামাজিক মিডিয়ায় ভিভেকের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে তার পরিচয় নকল করছে। এই ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলোতে তার ছবি ও তথ্য ব্যবহার করে অনুসারীদের বিভ্রান্ত করা হয়।
অধিকন্তু, অনলাইন শপিং সাইটে তার নাম ও চেহারা ব্যবহার করে পোস্টার, টি-শার্ট এবং পোস্টকার্ডের মতো পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এসব পণ্য কোনো অনুমোদন ছাড়াই উৎপাদন ও বিক্রয় করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মামলায় এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার মুখকে আপত্তিকর চিত্রে সংযোজনের অভিযোগও রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি মিথ্যা ভিডিও ও ছবি তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
এ ধরনের কৃত্রিম কন্টেন্টের ফলে জনসাধারণের মধ্যে ভুয়া সমর্থন ও অনুমোদন সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। ওবেরয় বলেন, এইসব কন্টেন্ট তার ব্যক্তিগত পরিচয়কে ধূসর করে এবং তার বাণিজ্যিক স্বার্থকে ক্ষতি করে।
অভিযুক্তরা যে এআই-সৃষ্ট কন্টেন্ট ব্যবহার করছে তা নিয়ন্ত্রণের অভাবে ব্যক্তিত্বের অধিকার বিপন্ন হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও বাণিজ্যিক সুবিধা হ্রাস পাবে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সহজলভ্যতা এই ধরনের অপব্যবহারকে আরও বিস্তৃত করে তুলেছে। ভিভেকের দল এই বিষয়টি তুলে ধরে বলেছে যে আইনগত সুরক্ষা ছাড়া সৃজনশীল প্রযুক্তি ব্যক্তিগত অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
দিল্লি হাইকোর্টে মামলাটি এখন বিচারাধীন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে। ভিভেক ওবেরয় আশা প্রকাশ করেছেন যে ন্যায়বিচার তার ব্যক্তিত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং অননুমোদিত ব্যবহার বন্ধ হবে।



