জুলাই মাসে ঘটিত প্রতিবাদগুলো কেবল কোনো মতাদর্শের ফল নয়; দেশের শিক্ষিত ও অর্ধ-শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান সংকটের গভীর অসন্তোষের প্রকাশ ছিল। এই পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ডেটা অ্যানোটেশন কাজকে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ স্পষ্ট পথ নির্দেশ করতে পারেনি।
বড় সংখ্যক স্নাতক ও ডিপ্লোমা ধারী যুবক সীমিত চাকরির সুযোগের মুখোমুখি, ফলে স্থিতিশীল আয়ের পথ সংকুচিত হচ্ছে। সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলো এখনও এই সমস্যার জন্য স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেনি। জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি এই চাপকে আরও তীব্র করে তুলছে।
AI মডেলগুলোকে শিখতে হয় লক্ষ লক্ষ মানবিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গঠিত লেবেলড ডেটা, যাকে ডেটা অ্যানোটেশন বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশাল পরিমাণ ছবি, অডিও ও টেক্সটকে নির্দিষ্ট ক্যাটেগরিতে ভাগ করা হয়। বিশ্বব্যাপী AI প্রকল্পের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এই কাজের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
উদাহরণস্বরূপ, একটি ছবি যদি ধানের ক্ষেতের হয় তবে তা ‘ধান’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, আর কোনো সড়কের ছবি ‘সড়ক’ হিসেবে লেবেল হয়। একইভাবে, রোগের শব্দকে ‘রোগ’ এবং ব্যাকগ্রাউন্ড শোরকে ‘শব্দ নয়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই ধরনের সূক্ষ্ম নির্দেশনা অ্যালগরিদমকে সঠিকভাবে শিখতে সাহায্য করে।
বিশ্বব্যাপী ডেটা অ্যানোটেশন শিল্প বর্তমানে দশক ডলারের পরিমাণে মূল্যায়িত, এবং বড় মডেল, সুপারকম্পিউটার ও উচ্চমূল্যের স্টক মূল্যের চেয়ে কম নজরে থাকে। এই শিল্পের আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যদিও তা মিডিয়ায় কমই আলোচিত হয়।
স্বাস্থ্যসেবা নির্ণয়, কৃষি পর্যবেক্ষণ, লজিস্টিক্স অপ্টিমাইজেশন, নজরদারি ব্যবস্থা এবং আর্থিক ঝুঁকি মূল্যায়নসহ প্রতিটি নতুন AI প্রয়োগ লেবেলড ডেটার চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। ফলে বিভিন্ন সেক্টরে ডেটা অ্যানোটেটরের ভূমিকা অপরিহার্য হয়ে উঠছে।
আশ্চর্যের বিষয় হল, AI যতই উন্নত হয়, ততই মানবিক বিচার ও সূক্ষ্ম লেবেলিংয়ের প্রয়োজন বাড়ে; সিস্টেম যত স্মার্ট, ততই প্রশিক্ষণ ডেটা যত নিখুঁত হতে হবে। এই বৈপরীত্য ভবিষ্যতে মানব শ্রমের নতুন রূপের দরজা খুলে দিচ্ছে।
ভারতে এই প্রবণতা নগর ল্যাবের বদলে ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলে দৃশ্যমান হচ্ছে, যা সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের একটি ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রে তুলে ধরা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি এই পরিবর্তনের বাস্তব চিত্র উপস্থাপন করে, যা সাধারণ মানুষকে বিষয়টি বুঝতে সহায়তা করে।
চলচ্চিত্রটি ঝাড়খণ্ডের এক গ্রামীণ নারীর গল্প অনুসরণ করে, যিনি আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের জন্য AI সিস্টেম প্রশিক্ষণকারী ডেটা লেবেলিং সেন্টারে কাজ শুরু করেন। তার কাজ দেখায় যে আজকের বুদ্ধিমত্তা শহুরে হাবের বাইরে, দূরদূরান্তের কর্মস্থলে কোডেড হচ্ছে। এই গল্পটি দেশের বহু তরুণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একই ধরনের কাজ হাজারো গিগ কর্মী ভারতের বিভিন্ন জেলায় করে চলেছেন; তারা ছবি, শব্দ ও টেক্সটকে লেবেল করে বৈশ্বিক মডেলকে সমর্থন করেন এবং দশ বছর আগে না থাকা আয় উপার্জন করছেন। এই কাজগুলো প্রায়ই ফ্রিল্যান্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ছোট চুক্তি হিসেবে প্রদান করা হয়। ফলে গ্রামীণ এলাকায় ডিজিটাল অর্থনীতির প্রবেশদ্বার খুলে গেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই সেক্টর দশকের শেষের দিকে ৪০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজারে পরিণত হবে, এবং এক মিলিয়নের কাছাকাছি কর্মী মাইক্রো-টাস্ক ও চুক্তিভিত্তিক কাজের মাধ্যমে অংশ নেবে। এই বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য নতুন প্রতিষ্ঠানও উদ্ভব হবে।
যদি ভারত এই প্রবণতাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে, তবে বিশ্ব AI ডেটা সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ অংশে নিজেকে স্থাপন করতে পারবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের বেকারত্ব সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। নীতি নির্ধারকদের জন্য এটি নতুন কর্মসংস্থান নীতি গড়ে তোলার সুযোগ প্রদান করে। ভবিষ্যতে এই শিল্পের বিস্তার দেশের প্রযুক্তি ভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।



